নয়াদিল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান। ২০০৪ সালের একটি মামলায় সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার জ্যাকব মার্টিন। দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে আনা জাল নথি, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র এবং পাসপোর্ট আইনের ধারায় ওঠা অভিযোগের কোনওটিই প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছে। অভিযোগ ছিল, ইংল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নথি জাল করা এবং সেই সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মার্টিনের যোগ ছিল। কিন্তু আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।
মামলার সূত্রপাত ২০০৪ সালে। মার্টিনের একটি ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল। দলের এক সদস্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ব্রিটেনে থেকে যান। পরে তিনি ভুয়ো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প করিয়ে ভারতে ফেরার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করার পর তদন্ত শুরু হয়। মার্টিনের দাবি, মূল এফআইআরে তাঁর নামই ছিল না। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর পরিচিতির কারণেই তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়।
আদালতে অবশ্য মার্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্য মেলেনি। আর্থিক লেনদেন নিয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি আজওয়া স্পোর্টস ক্লাবের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে ছিল, এমন দাবিরও ভিত্তি খুঁজে পায়নি আদালত। একাধিক সাক্ষীও অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে বেকসুর খালাস পেলেন বরোদার এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।
রায়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মার্টিন। তাঁর দাবি, এই মামলা তাঁকে বছরের পর বছর মানসিক চাপের মধ্যে রেখেছিল। এমনকি মামলার জেরে রেলের চাকরিও হারাতে হয়েছিল তাঁকে। এত দিন ধরে বিসিসিআইয়ের কাছ থেকেও কোনও উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২২ বছর পর আদালতের এই রায়কে জীবনের ‘বড় মোড়’ বলেই মনে করছেন মার্টিন। ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে খেলেছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ১০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১৫৮ রান, ব্যাটিং গড় ২২.৫৭। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এ বার যেন নতুন করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি।