আত্মীয়র বাড়িতে লুকিয়েও হলো না শেষ রক্ষা। ধরা পড়তেই হলো পুলিশের জালে। দিল্লির জাঙ্গিপুরে খুনের ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত গ্যাংস্টার ওয়াসিম আকরাম ওরফে লম্বু-কে গ্রেপ্তার করল দিল্লি ও নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। অভিযুক্ত নিজের আত্মীয়র বাড়ি নন্দীগ্রামে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ শে জুলাই রাত প্রায় ৮ টা নাগাদ উত্তর-পশ্চিম দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় একদল দুষ্কৃতী ২০ বছর বয়সি ইরফান নামের এক যুবকের উপর হামলা চালায়। ছুরির আঘাতে নিহত হন ওই যুবক। ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকায় থাকা দুজন কনস্টেবল ওই যুবককে বাঁচাতে এলে তাদের উপরেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
গুরুতর জখম অবস্থায় ইরফানকে স্থানীয় বাবু জগজীবন রাম মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্তের নাম সামনে আসে। এরপর দীর্ঘদিন তল্লাশি পর নন্দীগ্রাম থেকে ঘটনার মূল অভিযুক্ত গ্যাংস্টার ওয়াসিম আকরামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ শে জুলাই এই ঘটনা ঘটানোর পর অভিযুক্ত দিল্লি থেকে গা ঢাকা দেয়। দীর্ঘদিন পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে নন্দীগ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তের নন্দীগ্রামে লুকিয়ে থাকার খবর পৌঁছয় দিল্লি পুলিশের কাছে। এরপর নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হয়। চৌরঙ্গির ওই বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াসিম আকরামকে।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় মিশ্র জানান, নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ও দিল্লী পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান সফল হয়েছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা বড়সড় সাফল্য হিসেবেই মনে করছেন তারা।
খুনের পর হাজার কিলোমিটার দূরে পাড়ি দিও শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল আত্মীয়র বাড়িতে। দীর্ঘদিন পর অবশেষে পুলিশের জালে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা? কি উদ্দেশ্যে ওই যুবকের উপর তারা হামলা করেছিল? সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। আগামীদিনে এই ঘটনার মোড় কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।