কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিল্পায়নে গতি আনতে বড় পদক্ষেপ। রাজ্যে পালাবদলের আগে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সেই হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, ছেলে করণ আদানি। প্রায় ৫১ একর জমির উপর তৈরি হবে এই হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্র।
বুধবার রাতে শহরে পৌঁছন আদানি। কলকাতায় পা রেখেই বৃহস্পতিবার সকালে শহরের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি ৷ সস্ত্রীক পুজো দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন তিনি। তাঁর সফর ঘিরে সকাল থেকেই মন্দির এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বৃহস্পতিবার একাধিক কর্মসূচি রয়েছে আদানির। সেই কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ নামে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত হন গৌতম আদানি। সেখানেই আদানির গলায় শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা। তিনি বলেন, 'বাংলায় শিল্পের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আপনিই প্রমাণ করেছেন, আপনিই সত্যি ভূমিপুত্র। কর্মসংস্থা, শিক্ষা, শিল্পের পরিকাঠামো-স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন।
তবে আদানির কলকাতা সফরে শুধু হাসপাতাল প্রকল্পই নয়, নজরে রয়েছে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংও। সূত্রের খবর, রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের বিষয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের আলোচনা হয়েছে। এর আগে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মহাকরণ পরিদর্শন করে সংস্কারের সম্ভাব্য দিকগুলি খতিয়ে দেখেছিলেন। ঐতিহাসিক এই ভবন সংস্কারে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে।
এছাড়াও কুমোরটুলি ঘাটের সংস্কার নিয়েও এদিন কর্মসূচি রয়েছে আদানি গোষ্ঠীর। ইতিমধ্যেই কুমোরটুলি ঘাটের সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে আদানি গ্রুপ। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সংস্কার করা ঘাটেরও উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আদানির কলকাতা সফর ঘিরে শিল্প বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য সংরক্ষণ—তিন ক্ষেত্রেই নতুন কোনও ঘোষণা সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
