পাঞ্জাব, নিউজ ডেস্ক: এক সময় বিদেশে পাড়ি দেওয়া এক তরুণকে ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক স্তরে তৎপর একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। পরিচয় বদল, দেশ বদল এবং যোগাযোগের পদ্ধতি বদলে দীর্ঘদিন ধরে নজর এড়ানোর চেষ্টা, তবুও তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অপরাধের তদন্তে। পাঞ্জাবের এক সাধারন পরিবারের সেই যুবকের উত্থানের গল্প শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের আলোচনায়।
তিনি সতবিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার। পাঞ্জাবে শ্রী মুক্তসর সাহিবে ১৯৯৪ সালে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা শামশের সিং পাঞ্জাব পুলিশের এএসআই ছিলেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করবেন তিনি। কিন্তু, চন্ডিগড়ে পড়াশোনার সময় ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন ব্রার। সেই সময়ই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর ২০১৭ সালে স্টুডেন্ট ভিসাতে কানাডায় পাড়ি দেন ব্রার। সেখানে ট্রাক চালানো, ডেলিভারি-সহ বিভিন্ন কাজ করার পাশাপাশি, পাঞ্জাবে থাকা অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ধীরে ধীরে বিদেশে বসেই একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক পরিচালনার দিকে এগিয়ে যান তিনি।
২০২০ সালে চন্ডিগড়ে তাঁর এক ভাই গুরলাল ব্রার খুন হন। এই ঘটনার পর প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে ব্রার তাঁর অপরাধী নেটওয়ার্ক আরও সক্রিয় করেন বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি। লরেন্স বিষ্ণোই ভারতে জেলে থাকাকালীন বিদেশ থেকে দলের কার্যকলাপের পরিচালনায় ব্রারের ভূমিকার কথাও উঠে আসে। এছাড়াও তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিদেশে বসে যোগাযোগের জন্য এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ, ইন্টারনেট কল এবং ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করা হত। বিভিন্ন রাজ্য থেকে শুটার নিয়োগ, অস্ত্র সংগ্রহ এবং আলাদা জায়গায় অপরাধ সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ। চাঁদাবাজির টাকা হাওয়ালা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সরানোর অভিযোগও রয়েছে।
এরপর ২০২২ সালের মে মাসে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক স্তরে ব্রারের নাম আরও সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, বিদেশে বসে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সমন্বয় করেছিলেন তিনি। এছাড়াও একাধিক খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য পাচারের অভিযোগও তাঁর নামে জড়িয়েছে। ভারত সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউপিএ-র অধীনে গোল্ডী ব্রারকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি হয়েছে। এমনকি, এনআইএ তাঁর সম্পর্কে তথ্যের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার তদন্ত এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
