নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে বুধবারও উত্তাল সংসদের বাদল অধিবেশন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে অবিলম্বে সংসদে আলোচনার দাবিতে সরব হয় বিরোধী দলগুলি। তুমুল হইচই ও স্লোগানবাজির জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষের অধিবেশনই দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়। তবে এর মাঝেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে সরকার পক্ষ।
এদিকে, লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে সংসদীয় নিয়ম মেনেই সেই আলোচনা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। রিজিজু বলেন, "সংসদে কোনও আলোচনা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হয়। কখন আলোচনা হবে, কতক্ষণ চলবে এবং কোন বিধির অধীনে হবে—সেই সিদ্ধান্ত লোকসভার স্পিকার সব রাজনৈতিক দলের ফ্লোর লিডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেবেন। সরকার নিট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরা চাই, সব দল একসঙ্গে বসে এই বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা করুক।"
কেন্দ্রের এই বার্তার পরও বিরোধীরা অবিলম্বে আলোচনা শুরুর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। ফলে অধিবেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। তুমুল হইচই ও স্লোগানবাজির জেরে লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষের অধিবেশনই দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
এদিকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলন ও সংসদে সরব অবস্থান, অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচি- এই পরিস্থিতির মাঝেই আলোচনায় প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে কেন্দ্র। এখন স্পিকারের সর্বদলীয় বৈঠকের পর কবে এবং কীভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে আলোচনা শুরু হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।