আসানসোল, রেশমি ব্যানার্জি: একটানা বৃষ্টি তার সঙ্গে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া, এই দুইয়ের জেরে বানভাসি আসানসোল। বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। রাস্তাঘাট থেকে বাড়ির উঠোন সর্বত্র জল। কোথাও কোমরসমান জল, আবার কোথাও বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য নামাতে হয়েছে স্পিডবোট।
সূত্রে খবর, আসানসোলের রেলপাড়, বস্তিন বাজার, বরাকর-সহ একাধিক এলাকায় জল জমেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ছবি আসানসোল পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেলপাড় এলাকায়। শোনপাপড়ি গলি, কে টি রোড, নিউ বস্তি-সহ বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। বহু বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে বৃষ্টির পরিমাণে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৮ থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ পর্যন্ত আসানসোল ও বার্নপুর মিলিয়ে ২২০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র আসানসোলে বৃষ্টির পরিমাণ ১৫৭.৫ মিলিমিটার।
আবহাওয়া দপ্তরের দাবি, ১৯৯৯ সালের পর থেকে আসানসোলে আগস্ট মাসে এমন ভারী বৃষ্টি দেখা যায়নি। মঙ্গলবার থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা স্পিডবোট নিয়ে জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটকে থাকা বাসিন্দাদের জন্য খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এরইমধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজ। ব্যারেজের ১০ টি লকগেট খুলে ৬৪ হাজার ৩২৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ফলে, জলস্তর আরও বাড়ে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। অন্যদিকে, সীতারামপুরে এক খালে তলিয়ে গিয়েছেন দুই যুবক। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে অন্যজন। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
এ বিষয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী রোশন গুপ্তা জানান, আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করার পাশাপাশি খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা এখনও আটকে আছে তাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা চলছে। জেলাশাসক এস পোন্নামবালম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ত্রাণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।