নিউজ ডেস্ক: পর্বতারোহণের মরসুম শুরুর প্রস্তুতিতেই নেপালে ঘটে গেল ভয়াবহ হিমালয়ান বিপর্যয়। মানাং জেলায় অবস্থিত হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে আছড়ে পড়ল বিশাল তুষারধস বা হিমানীসংপ্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ফুট পুরু বরফের স্তরের নীচে চাপা পড়ে গোটা শিবির। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে বরফের তলায় অন্তত ১২ জন সহযোগী কর্মী আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আসন্ন আরোহণ মরসুমের আগে বেস ক্যাম্প প্রস্তুত করার কাজ চলছিল। শেরপা গাইড, ক্যাম্প কর্মী এবং রান্নার দায়িত্বে থাকা নেপালি সহকারীরা তখন শিবিরে ছিলেন। আচমকাই পাহাড়ের উপর থেকে তীব্র গতিতে নেমে আসে বিপুল বরফের স্তূপ। কোনওরকম সতর্কতা বা পালানোর সুযোগ না পেয়েই তুষারের নীচে চাপা পড়ে যান সেখানে কর্মরত শেরপারা।
খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ‘নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশন’ এবং প্রখ্যাত পর্বতারোহী মিংমা জি শেরপার নেতৃত্বে আট সদস্যের অভিজ্ঞ গাইড দল স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তল্লাশি অভিযানে নামে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তুষারে ঢাকা বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। চারপাশে বরফের স্তূপের মধ্যে স্ট্রেচার, রোপ এবং জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় চার জনের দেহ।
https://x.com/arunruby08/status/2105196969966907862
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এত পুরু বরফের স্তরের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। বরফের চাপ এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশায় দ্রুত অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে। কারণ সামান্য অসতর্কতাতেও উদ্ধারকারীদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন বিপদ।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হয়েছে। একদিকে ১৪ থেকে ১৫ ফুট পুরু জমাট বরফ, অন্যদিকে তাপমাত্রার দ্রুত পতন ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। পাশাপাশি স্থানীয় ঢালে ফের তুষারধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত তল্লাশি অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে প্রশাসন।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক না হওয়া এবং চারপাশের আলগা বরফ স্থির না হওয়া পর্যন্ত ফের বরফ খোঁড়া সম্ভব নয়। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই নিখোঁজ শেরপাদের সন্ধানে আবার পুরোদমে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। তবে দুর্গম উচ্চতা, প্রবল ঠান্ডা এবং নতুন করে তুষারধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের সামনে চ্যালেঞ্জ যথেষ্ট বড়।
