উত্তরপাড়া: একসময় যে কারখানাকে ঘিরে গোটা এলাকার অর্থনীতি আবর্তিত হত, সেই হিন্দুস্তান মোটরসের জমিতে ফের শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিত্যক্ত জমির একটি অংশে ইলেকট্রিক ভেহিকল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে হিন্দুস্তান মোটরস। এই খবর সামনে আসতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন উত্তরপাড়া ও হিন্দমোটর এলাকার বাসিন্দারা।
উত্তরপাড়ার হিন্দুস্তান মোটরস কারখানা একসময় দেশের অন্যতম পরিচিত গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। প্রায় ৭০০ একর জমির উপর তৈরি এই কারখানায় তৈরি হত জনপ্রিয় অ্যাম্বাসাডর গাড়ি। কয়েক হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করতেন। কারখানাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছিল বাজার, ব্যবসা, স্কুল-সহ নানা পরিষেবা। উত্তরপাড়া ও কোন্নগরের মাঝখানে তৈরি হয়েছিল হিন্দমোটর রেল স্টেশনও।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাজারে অ্যাম্বাসাডর গাড়ি পিছিয়ে পড়ে। গাড়িটির আধুনিকীকরণ না হওয়া এবং বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে কারখানার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে হিন্দুস্তান মোটরসের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
বর্তমানে কারখানার জমির মালিকানা রাজ্যের হাতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমি আবাসন প্রকল্পের জন্য একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৪০ একর জমি টিটাগড় ওয়াগনকে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মেট্রোর রেক তৈরির কাজ হয়। বাকি জমির একটি অংশে নতুন করে ইলেকট্রিক ভেহিকল তৈরির প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্য বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই বিষয়ে পোস্ট করা হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিজেপি নেতা পঙ্কজ রায়ের বক্তব্য, রাজ্য সরকার হিন্দুস্তান মোটরসের কাছে প্রকল্পের ডিপিআর বা বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট চেয়েছে। তাঁর দাবি, রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানায় ফের উৎপাদন শুরু হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন অনেকে। স্থানীয় এক প্রাক্তন কর্মীর কথায়, কারখানা ফের চালু হলে পুরনো কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার নতুন প্রজন্মও কাজের সুযোগ পেতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছয়নি। জমি, বিনিয়োগ, প্রকল্পের অনুমোদন এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা-সহ একাধিক ধাপ পেরোতে হবে। ফলে হিন্দমোটরে আবার কবে উৎপাদনের আলো জ্বলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় মানুষ।
