বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথ মাঝপথে বদলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সরব স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির ক্রিকেট অগ্রগতিতে একটি বড় ধাক্কা। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ১৮ মাসও বাকি নেই। তার মধ্যেই এ ভাবে কাঠামো বদলানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দুই বোর্ড।
আগে ঠিক হয়েছিল, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ১৪টি দলকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করে খেলা হবে। তার পর সেরা ৬টি দলকে নিয়ে হবে সুপার সিক্স পর্ব। কিন্তু গত জুলাইয়ে এডিনবরায় আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনের পরই বদলে যায় সেই পরিকল্পনা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বরে থাকা তিন দল প্রথমে একটি ‘সুপার সিরিজ’ খেলবে। তাদের মধ্যে থেকে কেবল একটিমাত্র দলই যোগ দিতে পারবে মূল পর্বে থাকা ১১টি দলের সঙ্গে। তার পর দু’টি ছয়দলীর গ্রুপ এবং শেষে সাত দলের ‘সুপার সেভেন’ পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠবে ৪ দল।
এই বদলের ফলে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ কার্যত আরও কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের। শুধু সিদ্ধান্তের প্রভাব নয়, তা নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। দুই বোর্ডের বক্তব্য, সীমিত আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সামর্থ্য নিয়ে কাজ করা অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাসোসিয়েট দেশের প্রশাসক জানান, এডিনবরার বৈঠকে এমন কোনও পরিবর্তনের আভাসই পাননি তাঁরা। তাঁর কথায়, ‘‘সবার কাছেই বিষয়টি আচমকা এসেছিল।’’
আইসিসির সঙ্গে পরে দু’বার বৈঠক করেও লিখিতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুই বোর্ড। তাদের দাবি, পরিবর্তনগুলির সরকারি নথি চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অ্যাসোসিয়েট দেশগুলিকে আরও বেশি যুক্ত করার আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বৈঠকের পর দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার তরফে আর কোনও জবাব আসেনি। স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার যোগ্যতার কাঠামো মাঝপথে বদলালে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, আর্থিক পরিকল্পনা এবং বাণিজ্যিক চুক্তি, সব কিছুতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
দুই বোর্ডের আবেদন, অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসুক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। তাদের যুক্তি, বিশ্বকাপের মঞ্চে অ্যাসোসিয়েট দেশগুলির বিরুদ্ধে শক্তিশালী দলগুলির অপ্রত্যাশিত হার একাধিকবার ২২ গজের লড়াইকে রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। সেই সুযোগ কমিয়ে দিলে ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী খেলায় পরিণত করার লক্ষ্যই আসলে ধাক্কা খাবে। তাদের কথায়, বিশ্বকাপ তখনই সত্যিকারের বিশ্বকাপ হয়ে উঠবে, যখন প্রত্যেক সদস্য দেশের কাছে মাঠে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে বড় মঞ্চে পৌঁছনোর ন্যায্য সুযোগ থাকবে।