স্পোর্টস ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ভেস্তে গিয়েছিল প্রকৃতির রোষে। ফলে পরখ করা হয়নি নিজেদের শক্তি। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে সেই হিসেব যেন সুদে আসলে মিটিয়েই এশিয়ান গেমসের ফাইনালে চলে গেল শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। নিসশিনে এ দিন ভারতের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে দ্বীপরাষ্ট্র শেষ মাত্র ৪৫ রানেই। ১২৪ রানের বিশাল জয়ের সুবাদে সোনা থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে ভারত। এ বার ফাইনালে প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান।
এ দিনও যদি ম্যাচ বৃষ্টিতে ধুয়ে যেত, তা হলে প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুসারে সরাসরি ফাইনালের টিকিট পেয়ে যেতেন শ্রেয়স আইয়াররা। তবে প্রকৃতি এ দিন আর বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ফলে, টি-টোয়েন্টির বিশ্বজয়ী দলের আরও একটি অনবদ্য পারফরম্যান্সের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট দুনিয়া। টসে জিতে এ দিন প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক। স্পিন-সহায়ক সারফেসে সেই সিদ্ধান্ত যে আসলে কতটা ভুল, সেটাই যেন প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলেন ঈশান কিষাণ। মাত্র ৪৬ বলে তাঁর অপরাজিত ৮০ রানের সৌজন্যেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৬৯ তোলে মেন ইন ব্লু।
এর আগে শুরুতে নিজের স্বকীয় ভঙ্গিতেই ঝড় তুলেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। ২১ বলে ৬টি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৩৮ করেন ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় বালক। অন্যদিকে কিষাণের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪টি চার এবং ৫টি ছক্কায়। এ ছাড়া অবশ্য আর কেউ সেভাবে রান পাননি। উইকেটে বল পড়ে থমকে আসছিল। পাশাপাশি টার্নও দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঈশান আর বৈভব ছাড়া দুই অঙ্কের গণ্ডি পেরোতে পেরোছেন কেবলমাত্র অধিনায়ক আইয়ারই (১৩)।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপক্ষকে যথেষ্টই কঠিন একটি লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল ভারত। তার জবাবে ৫০-ও পেরোতে পারল না শ্রীলঙ্কা। দলের তরফে মাত্র একজনই পৌঁছতে পেরেছেন দুই অঙ্কে। ১১ বলে ১৫ রান করেন নুওয়ানিন্দু ফার্নান্ডো। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জশপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল এবং অভিষেক শর্মা। একটি উইকেট ওয়াশিংটন সুন্দরের খাতায়। তবে এ বার সোনার লড়াইটা আরও কঠিন এবং আবেগের। কারণ, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান।
গত বছরই এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় দল। এ বার এশিয়াড ফাইনালেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হওয়ায় ফিরছে সেই স্মৃতি। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি ফাইনালে মোট দু'বার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে দু'বারই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। যথাক্রমে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এবং ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনালে। এ বারও যে একই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবেন শ্রেয়স আইয়াররা, তা বলাই বাহুল্য।
