নিউজ ডেস্ক: দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর। কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও সীমান্তে পরিস্থিতি অশান্ত থাকলে সেই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। নয়া দিল্লি ও বেজিং এর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এবার সেই অবস্থান আরো স্পষ্ট করে দিলেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সীমান্তের স্থিতিশীলতা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের কথা।
সূত্রে খবর, জয়শঙ্কর বলেছেন ভারত ও চীনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক করতে হলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। অর্থাৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান ফের সামনে এসেছে। ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন জয়শঙ্কর।
https://x.com/PTI_News/status/2110283085552156948
এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অশান্তির পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন বিদেশ মন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্যকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানের পুনরুল্লেখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, এই মন্তব্যের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং চীনের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপরে। কূটনৈতিক আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খোলা রাখতে হলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা কমানো জরুরী। বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যে সেই বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে অশান্তি চলতে থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কঠিন। তবে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরানো এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য ধারাবাহিক আলোচনা ও বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। আগামী দিনে নয়া দিল্লি ও বেজিং সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কি উদ্যোগ নেয়, সেই দিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
