হুগলি: প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল চুঁচুড়ার প্রথম দায়রা আদালত। বুধবার আদালতের এই নির্দেশের পর তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
জানা গিয়েছে, গত ৪ জুলাই ২০২৬ সালে চন্দননগর থানায় চন্দননগর কর্পোরেশনের এক ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রদীপ দে একটি মামলা দায়ের করেন। ১০৭ নম্বর ওই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং অন্যের টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই একই মামলায় এর আগেই গ্রেফতার হয়েছেন চন্দননগর কর্পোরেশনের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগারওয়াল। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করে আদালত।
হুগলি জেলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এই মামলায় তোলাবাজির অভিযোগে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগারওয়াল এবং কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার শৈবাল রায়কে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা নেই। আদালতে সরকারি পক্ষের তরফে জোরালো সওয়াল করা হয় যাতে অভিযুক্ত কোনওভাবেই আগাম জামিন না পান।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে চন্দননগর বিধানসভা উৎসবের নামে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে আসে। শিল্পী মহলের একাংশ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ না হলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া যেত না। সেই সময় থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর শোনা যায় বিভিন্ন মহলে।
এদিকে আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং কবে ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করা হতে পারে, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।