ইংরেজ আমলে দেশাত্মবোধ ছড়িয়ে পড়ত এই মন্ত্র উচ্চারণে।এই ধ্বনি দিয়ে প্রাণ বলিদান দিয়েছেন বিপ্লবীরা। একারনেই জাতীয়গীতি হিসেবে স্বীকৃত ‘বন্দে মাতরম’কে অবমাননা করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল অনুমোদন করেছে ভারতীয় পার্লামেন্ট। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পরদিন, বুধবার লোকসভাতেও 'দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' পাস হয়।
ধ্বনিভোটে এটি অনুমোদিত হওয়ায় আইনটিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত ধাপের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। তবে লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার সময় বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। সেই হৈচৈয়ের মধ্যেই বিলটি পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
১৯৭১ সালের ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ সংশোধন করতেই এই নতুন উদ্যোগ। বর্তমানে সংবিধান, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করা, গাওয়ার সময় বাধা সৃষ্টি বা গোলমাল করলেও সমপরিমাণ শাস্তি—অর্থাৎ তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডই বহাল থাকবে।
১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এবং ১৮৮২ সালে তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে প্রকাশিত 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বিল আনা হয়েছে। এর আগেই রাজ্যসভায় ভোটাভুটির সময় সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে এবং কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো কক্ষত্যাগ করে। তবুও উভয় কক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ায় প্রস্তাবিত বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।