কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: কলকাতায় বসে আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক বিস্তারের অভিযোগে তদন্তে নয়া তথ্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট হিসেবে সন্দেহভাজন রানা রউফের এক সহযোগীকে তপসিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। ধৃত যুবকের নাম ইমরান। সোমবার তপসিয়ার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, রানা রউফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল ইমরানের। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভারতে নিজের পরিচয় আরও শক্তপোক্ত করার জন্য ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল রানা। সেই কাজে ইমরান তাকে সহযোগিতা করছিল বলে অভিযোগ। পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইমরানের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রাজ্য পুলিশের এসটিএফের দাবি, কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি বড়সড় নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল রানা রউফের। শুধু গুপ্তচরবৃত্তি নয়, জঙ্গিদের জন্য ‘স্লিপার সেল’ তৈরির পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। কলকাতায় বসে নাশকতার ছক তৈরি এবং বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের লোক ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের মতে, রানা রউফকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই ইমরানের নাম সামনে আসে। তার গতিবিধি এবং রানার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর তপসিয়ার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্যের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে এসটিএফ। সূত্রের খবর, ইমরানের সঙ্গে আরও দু-একজন ব্যক্তি যোগাযোগ রাখত। তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং তারা বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রে খবর।
রানা রউফকে ঘিরে তদন্তে এর আগে থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত, কীভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলত এবং কলকাতায় বসে কী ধরনের কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল, সেসব বিষয়ই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ইমরানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।