গৃহযুদ্ধ, অশান্তি, আর্থিক মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। সেই কারণেই এবার ক্রিপ্টো কারেন্সিকে বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে চাইছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু সেই পরিকল্পনার মাঝেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল উলুম করাচি ক্রিপ্টোকারেন্সিকে শরিয়তসম্মত নয় বলে ফতোয়া জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ।
এই ফতোয়া দিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় পণ্ডিত মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানি-সহ দারুল উলুমের একাধিক আলেম। একটি অনলাইন কোর্স এবং বই কেনার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা বৈধ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবেই এই ধর্মীয় মতামত প্রকাশ করা হয়। দারুল উলুম করাচির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রকৃত সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ফলে এটিকে বৈধ অর্থপ্রদানের মাধ্যমও বলা সম্ভব নয়। যদিও এই ফতোয়ার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও পাকিস্তান-সহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সমাজে দারুল উলুম করাচির মতামত অত্যন্ত প্রভাবশালী। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আরও বহু ইসলামি পণ্ডিতও একই মত পোষণ করেন।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পাকিস্তান সরকার ভার্চুয়াল সম্পদের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খুচরো ক্রিপ্টো বাজার হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতকে বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের একটি সহযোগী সংস্থার সঙ্গেও সম্প্রতি চুক্তি করেছে ইসলামাবাদ। ওই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনে স্টেবলকয়েন ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান এই উদ্যোগকে ‘ক্রিপ্টো কূটনীতি’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে।
ফতোয়ার পর সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান বিলাল বিন সাকিব জানিয়েছেন, দারুল উলুম করাচির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, সব ধরনের ডিজিটাল সম্পদকে একইভাবে বিচার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তিভিত্তিক ইসলামি বন্ড, স্বর্ণ-সমর্থিত ডিজিটাল টোকেন কিংবা সম্পূর্ণ সংরক্ষিত স্টেবলকয়েনের মতো সম্পদের পিছনে বাস্তব সম্পদের ভিত্তি রয়েছে। তাই এগুলিকে জল্পনাভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে এক কাতারে ফেলা ঠিক হবে না। তবে বাস্তব সম্পদের ভিত্তিহীন জল্পনাভিত্তিক টোকেন নিয়ে ধর্মীয় পণ্ডিতদের উদ্বেগকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।