বীরভূম: মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়ার। বীরভূমের সদাইপুর থানা এলাকায় বাইক ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ২০ বছরের রোহিত হালদারের। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তরুণ পড়ুয়ার অকালমৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিত নিজের বাইক নিয়ে কচুজোড়ের ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে একটি পেট্রোল পাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন। কচুজোড় মোড়ের কাছে পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাঁর বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে বাইক থেকে ছিটকে পড়েন রোহিত। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটির চালক ঘটনাস্থলে না থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করতে তৎপর হয় পুলিশ। পরে দুবরাজপুরের কামারশাল মোড়ের কাছে দুবরাজপুর ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটির সন্ধান পায়।
তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগেই চালক গাড়িটি লক করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ পিকআপ ভ্যানটি বাজেয়াপ্ত করেছে। পলাতক চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিত নিজের রাস্তার দিকেই বাইক চালাচ্ছিলেন। রাস্তার ধারে থাকা একটি গর্ত এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানটি একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। তখনই সেটি বাইকের সামনে চলে আসে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বাইক আরোহী সিউড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। নিজের সাইডেই ছিলেন। রাস্তার ধারে একটা গর্ত থাকায় সেটা এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। উল্টো দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানটি হঠাৎ সামনের গাড়িটাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। তখনই বাইকের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে।”
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাস্তার পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পিকআপ ভ্যানটির গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
একদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, অন্যদিকে সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু একটি পথ দুর্ঘটনাই মুহূর্তে সবকিছু থামিয়ে দিল। রোহিতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মহলে নেমে এসেছে গভীর শোক।