কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙার ঘটনায় অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ই-মেল মারফত যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হচ্ছে না। কমিটিতে এক জন প্রাক্তন উপাচার্য, কলকাতার অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি বিভাগের অধিকর্তাকে রাখার কথা ভাবা হয়েছে। তাঁরা গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানিয়েছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পরই থানায় অভিযোগ এবং তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে থাকা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগপত্রে বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে ভাঙচুর এবং ঐতিহ্যবাহী ভবনের সামনে আগুন জ্বালানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অরবিন্দ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভও করছেন শিক্ষকরা। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদেরও সেখানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর ফটকের সামনে এবিভিপি-র কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, ফটক বন্ধ থাকায় কয়েক জন নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের উপর পা দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় প্রতীকের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে সেটি ক্যাম্পাসের ভিতরে ছুড়ে ফেলারও অভিযোগ ওঠে।
যদিও প্রতীক ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, অতিবাম তথা নকশালপন্থীদের পরিকল্পিত চক্রান্তেই প্রতীকটি ভাঙা হয়েছে। তারা বাংলা বিভাগের শিক্ষক রাজ্যেশ্বর সিংহের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে।
রাজ্যেশ্বর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ফুটেজ দেখলেই পরিষ্কার হবে কী ভাবে প্রতীকটি ভাঙা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি করেছেন।