জলপাইগুড়ি: নতুন পুরবোর্ড গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যেই জলপাইগুড়ি পুরসভায় পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুব্রত পাল। মঙ্গলবার বিকেলে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর রাতের সাংবাদিক বৈঠকে পদত্যাগের কথা নিজেই জানান তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সুব্রত পাল জলপাইগুড়ি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পেশায় আইনজীবী। পুরসভায় তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবেও তাঁকে দেখা হত। বর্তমানে পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই তৃণমূল শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েনের আবহ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই তাঁর আচমকা ইস্তফা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির মাধ্যমে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান সুব্রত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মমতাপন্থী কাউন্সিলরদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। ঠিক যখন নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল, তখন কেন তিনি কাউন্সিলর পদ ছাড়লেন, তা নিয়েই মূলত জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিরোধ বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি সুব্রত। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ‘চাপ’ অনুভব করছিলেন। পাশাপাশি শারীরিক ও ব্যক্তিগত কারণেও আপাতত রাজনীতি থেকে বিরতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সুব্রত বলেন, “কাউন্সিলর পদটা ছেড়ে দিলাম। বেশ কিছুদিন ধরে একটা চাপ অনুভব করছিলাম। কাউন্সিলরশিপ হিসাবে যে জার্নিটা আমার ছিল, সেই অধ্যায়টা আজকে শেষ হল।”
পুরবোর্ড নিয়ে চলা আইনি বিতর্কের কথাও এদিন তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের বোর্ড ‘অসাংবিধানিকভাবে’ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে পুরসভার বোর্ড ভাঙা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
জলপাইগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কাউন্সিলরের পদত্যাগ—দুই ঘটনাকে ঘিরেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
সুব্রত পাল অবশ্য তাঁর পদত্যাগকে আপাতত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই তুলে ধরেছেন। ‘চাপ’-এর নির্দিষ্ট কারণ তিনি প্রকাশ্যে জানাননি। ফলে তাঁর পদত্যাগের নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এখন দেখার, সুব্রত পালের ইস্তফার পর জলপাইগুড়ি পুরসভার নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব পড়ে কি না। পাশাপাশি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান কী হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।