জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: শহরের ব্যস্ত নার্সিংহোম। প্রতিদিন সেখানে ভর্তি থাকেন বহু রোগী, তাঁদের সঙ্গে থাকেন পরিজনেরাও। চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আচমকাই যদি অগ্নিসংযোগ হয়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মত প্রস্তুতি কি রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সোমবার জলপাইগুড়ি শহরের একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোমে পৌঁছন দমকল বিভাগের দল। আর সেই পরিদর্শনেই একটি নার্সিংহোমে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বেশ কিছু খামতি নজরে আসে। এরপর নড়েচড়ে বসে দমকলের আধিকারিকেরা।
সোমবার জলপাইগুড়ি শহরের বজরাপাড়া, রাজবাড়িপাড়া এবং থানা মোড় সংলগ্ন তিনটি বেসরকারি নার্সিংহোমে যান জলপাইগুড়ি দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা। মূলত নার্সিংহোম গুলিতে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় কি ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় শুধুমাত্র অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র রয়েছে কি না, তা দেখেই থেমে থাকেননি দমকল আধিকারিকেরা। আগুন লাগলে হাসপাতালের কর্মীরা কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, সেই প্রস্তুতিও পরীক্ষা করা হয়। দমকল কর্মীদের উপস্থিতিতে নার্সিংহোমের কর্মীদের নিয়ে মক ড্রিল করানো হয়। জরুরী পরিস্থিতিতে কর্মীরা কতটা দ্রুত এবং সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়।
এর পাশাপাশি, নার্সিংহোমের বিল্ডিং প্লেনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফায়ার প্ল্যান তৈরি হয়েছে কি না, অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না এবং ফায়ার লাইসেন্সের নথিপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কি না, সবকিছুই পরীক্ষা করেন দমকলের আধিকারিকেরা। তবে, রাজবাড়িপাড়ার একটি নার্সিংহোমে গিয়ে বেশ কিছু খামতি নজরে আসে আধিকারিকদের। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় খামতি থাকায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন দমকল আধিকারিকেরা। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একাধিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বজরাপাড়া এবং থানা মোড় সংলগ্ন বাকি দুই নার্সিংহোমে তেমন কোনও অসঙ্গতি নজরে আসেনি বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে, নিয়ম মেনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে সকলকেই সতর্ক করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি দমকল বিভাগের অফিসার ইনচার্জ ধর্মেন্দ্র কুমার রায় জানান, একটি নার্সিংহোমে বেশ কিছু খামতি পাওয়া গিয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের পরিদর্শন আগামী দিনে আরও চলবে। ফের পরিদর্শনের সময় যদি একই ধরনের গাফিলতি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের মধ্যে থাকা রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই শুধু যন্ত্রপাতি রাখা নয়, সেগুলি ব্যবহারে কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সোমবারের এই পরিদর্শন ফের সেই বিষয়টিই সামনে এনে দিল।
