কাশ্মীর, নিউজ ডেস্ক: প্রায় তিন দশক পর যেন কবর ফুঁড়েই উঠে আসছে কাশ্মীরের একের পর এক পুরনো হত্যা-রহস্য। ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নতুন করে শুরু করল জম্মু ও কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালে নার্স সরলা ভাটকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শ্রীনগরের নির্দিষ্ট আদালতে ৭৩৭ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে তারা। সেই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে জেলে বন্দি জেকেএলএফ প্রধান ইয়াসিন মালিকের। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর দীর্ঘদিনের পুরনো হামলা ও হত্যার মামলাগুলি ফের সামনে এনে তদন্তের গতি বাড়ানোর এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্ডেরবালের ওয়ান্ধামা গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ, কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের ২৩ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ছিল মহিলা আর শিশুরাও। ঘটনার পর তদন্ত হলেও মামলাটি দীর্ঘদিন কার্যত হিমঘরে চলে যায়। এ বার সেই ‘কোল্ড কেস’ ফের খুলে নতুন করে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে এসআইএ। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এত বছর পরে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
অন্য দিকে, ১৯৯০ সালের সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডেও বড় পদক্ষেপ করেছে এসআইএ। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন সরলা। ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন এবং পরে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় জমা দেওয়া ৭৩৭ পাতার চার্জশিটে ইয়াসিন মালিককে অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, সরলা ভাটকে অপহরণ ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। মামলায় আরও ৪ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩ জন ইতিমধ্যেই মৃত এবং এক জন এখনও পলাতক।
শুধু ওয়ান্ধামা বা সরলা ভাট নয়, কাশ্মীরি হিন্দুদের উপর হামলার আরও কয়েকটি পুরনো মামলাও নতুন করে খতিয়ে দেখছে এসআইএ। বিজেপি নেতা টিকা লাল তাপলু এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডও সেই তালিকায় রয়েছে। ফলে প্রায় তিন দশক আগের একের পর এক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডে ফের তদন্তের জাল বিস্তারের ইঙ্গিত মিলেছে। পুরনো মামলায় নতুন তথ্যপ্রমাণ হাতে আসে কি না, এবং তার ভিত্তিতে আরও কার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়, এখন সে দিকেই নজর।