রাঁচিতে বিধানসভার মিছিল চলাকালীন জে পি এস সি এবং জেএসএসসি পরীক্ষার্থীদের উপর পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদে সরব ঝাড়খন্ড রাজ্য বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একই সাথে কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। ঘটনায় বহু ছাত্র ছাত্রী আহত হয়েছে বলে দাবি করছেন বিজেপি। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বনধ ঘোষণা করে বিজেপি।
ঝাড়খন্ড বিজেপি রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু ঝাড়খন্ড সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন চাকরি বিক্রি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাবার মতন অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের দাবি না শুনে আন্দোলন দমন করার জন্য পুলিশ দিয়ে লাঠিচার্জ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন সোমবার দিন বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হয়। জল কামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয় ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করে। এতে বহু ছাত্র ছাত্রী আহত হয়েছে। তিনি জানান ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে এবার বিজেপি দল রাস্তায় নামবেন। তারা বনধ সফল করবেন বলেও জানান।
ঝাড়খন্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সমর্থন করতে গিয়ে তাকেও আটক করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রছাত্রীরা অবস্থান বিক্ষোভ করলেও তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তে দাবি জানান তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রী দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন। তাদের গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। সরকার তাদের দাবিগুলি গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে সরকার ইতিমধ্যেই ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তদন্তের সম্মতিও জানিয়েছে সরকার।
তবে জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানান উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী সুদিভ্য কুমার। তিনি দাবি করেন আদালতে নজরদারিতে এই পরীক্ষা হয়েছে। তা একতরফা ভাবে বাতিল করা সম্ভব নয়। এই তদন্তে সিআইডিকে সহযোগিতা করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠনে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।
একদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ইডির মামলা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড সিআইডি প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেকেও গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে এই মামলায় সিআইডির হাতে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০।