প্রতিবছর ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সভা তৃণমূলের চেনা ছবি হলেও, এবার রাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। পালাবদলের ঘাত-প্রতিঘাতে শহিদ দিবস উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা। ২১ জুলাই উপলক্ষে আজ রাজধানী কলকাতায় পৃথক তিনটি মঞ্চে পালিত হচ্ছে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান। একটির উদ্যোক্তা কালীঘাট তৃণমূল, দ্বিতীয়টি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন 'আসল তৃণমূল' এবং তৃতীয় সভাটি করছে কংগ্রেস।
একই দিনে শহরের তিনটি পৃথক সভায় বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন কলকাতা পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নিখুঁত নিরাপত্তা বলয়।
লালবাজার সূত্রে খবর, শহিদ মিনার, গান্ধী মূর্তি ও বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির জন্য থাকছে ড্রোন। কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ ডিভিশনসহ অন্তত পাঁচজন ডেপুটি কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে র্যাফ (RAF) এবং বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। এ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, সভার কারণে কোনো প্রধান রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। তবে মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডাফরিন রোডে সমর্থকদের ভিড়ের কারণে গাড়ির গতি অনেকটাই ধীর থাকবে। ভিড় সামলাতে ক্যাথিড্রাল রোডে সাময়িকভাবে একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে—দুপুর ১টা পর্যন্ত হরিশ মুখার্জি রোড থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে এবং ১টার পর বিপরীত অভিমুখে গাড়ি চলবে। ফলে ভিক্টোরিয়া সংলগ্ন ক্রসিং ও ক্যাথিড্রাল রোড এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কায় আগাম সতর্ক করা হয়েছে শহরবাসীকে।