নিউজ ডেস্ক: কন্যাকুমারীর এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং তাঁর স্বামী যিনি একজন ব্যবসায়ী তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় নাগেরকোইলের কাছে মধুমিতা, (বয়স-২৯), এবং তাঁর স্বামী ভিনোথ কুমারের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভিনোথ কুমার এলাচ রফতানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রয়েছে তাঁদের একটি দুই বছরের কন্যাসন্তান।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, মধুমিতার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, তাঁর বেশ কিছু রিলসে গয়না ও নগদ টাকা দেখানো হয়েছিলো। পাশাপাশি পরিবারের বাইরে যাওয়া, ঘোরাঘুরি এবং কেনাকাটার পরিকল্পনাও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট দিয়েছিলেন তিনি। এই তথ্যগুলি দেখেই সম্ভবত চোরেরা বাড়িটি কখন ফাঁকা থাকবে, তা বুঝতে পেরেছিল কি না , সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মধুমিতা, তাঁর স্বামী এবং সন্তান বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিরুনেলভেলিতে গিয়েছিলেন বিলাসবহুল শপিং-এ। রাত প্রায় ১২টা নাগাদ তাঁরা বাড়ি ফিরে দেখেন, বাড়ির মূল দরজা খোলা যাচ্ছেনা। উপায়হীন ভিনোথ বাড়ির পিছনের দিকে গিয়ে দেখতে পান, পিছনের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছে দুষ্কৃতীরা। ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, বেডরুম তছনছ করা হয়েছে এবং আলমারি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি স্যুটকেসে রাখা ১১৮ সোভেরিন সোনার গয়না এবং হিরের অলঙ্কার চুরি হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা নগদও খোয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, পিছনের দরজার তালা ভেঙেই দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকেছিল। দরজা ভাঙার জন্য গাছ কাটার মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইনস্পেক্টর জয়লক্ষ্মী জানিয়েছেন, জেলার পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পাঁচটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
https://www.instagram.com/reel/Dd0NGMAAqoN/?stkn=NGlmNzh4YXNwdmhk
মধুমিতার ইউটিউবে ৪১ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তিনি নিয়মিত নিজের গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে ভিডিও পোস্ট করেন। পুলিশের দাবি, কিছু পোস্টে বাড়িতে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল দেখা গিয়েছে। এমনকি মেয়েকে টাকা দেওয়ার ভিডিওও পোস্ট করেছিলেন তিনি। নিয়মিত সোনার গয়না কেনার বিষয়েও পোস্ট করতেন এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে যে দোকান থেকে গয়না কিনেছিলেন, সেই দোকানের নামও উল্লেখ করেছিলেন।
এখন তদন্তকারীরা তাঁর সেই পোস্টগুলিও খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের ভ্রমণ ও কেনাকাটার পরিকল্পনা প্রকাশ করা পোস্টগুলিও পুলিশের নজরে রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত চোরেরা ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখেই বাড়িতে চুরি করেছিল কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।
