নদিয়া: নদিয়ার করিমপুরে এক বেসরকারি নার্সিংহোমে সদ্যজাত শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় চরম গাফিলতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মৃত নবজাতককে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে বিক্ষোভে সামিল হন শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যরা। পরে করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার শিশুটির জন্ম হয় করিমপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। জন্মের পর থেকেই শিশুটি অসুস্থ ছিল এবং ক্রমাগত কান্নাকাটি করছিল। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি টিকা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। কিন্তু সেই সময় কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেননি। বরং ফোনে পরামর্শ নিয়ে নার্সরাই চিকিৎসা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
মৃত শিশুর বাবা মৃন্ময় বিশ্বাসের অভিযোগ, শিশুটিকে জ্বর ও পেটের সমস্যার জন্য একাধিক ওষুধ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ওষুধের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সেই ওষুধ প্রয়োগের মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার। পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেন শিশুটির মা। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমদিকে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা সড়ক অবরোধে বাধ্য হন।
শিশুটির দাদুর দাবি, ওই নার্সিংহোমে পর্যাপ্ত চিকিৎসক বা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নেই। সঠিক চিকিৎসার অভাব এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের একটাই দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে করিমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সেখানে কর্মরত নার্সদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। চিকিৎসার নথি, দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের ভূমিকা এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।