নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর জাভরি মন্দিরের বিতর্কিত একাদশ শতকের বিষ্ণুমূর্তিটির হারিয়ে যাওয়া মস্তক অবশেষে উদ্ধার করল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। সংস্থাটির নিজস্ব একটি গুদাম থেকেই মাথাটি খুঁজে পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতামতের ভিত্তিতে শিগগিরই সাত ফুট উঁচু বিগ্রহটির শরীর ও মস্তক পুনর্যোজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এএসআই-এর মহানির্দেশক যদুবীর সিংহ রাওয়াত এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, মস্তকহীন এই মূর্তিটির সংস্কার বা প্রতিস্থাপনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির একটি পর্যবেক্ষণ ঘিরে আদালত চত্বরে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রাওয়াত জানান, ভোপালে ব্রিকস সম্মেলন চলাকালীন তিনি জানতে পারেন মস্তকটি তাঁদের হেফাজতেই রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, মূর্তি চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মাথাটি আলাদা হয়ে যায় এবং পরে তা সংরক্ষণাগারে চলে আসে।
https://www.facebook.com/share/p/1EEtbFQM6q/
মূর্তি উদ্ধারের পাশাপাশি সংস্থার সার্বিক পরিকাঠামোয় একাধিক প্রশাসনিক সংস্কারের কথাও তুলে ধরেছেন মহানির্দেশক। দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে এখন থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর্থিক বছর বদলালেও কাজের অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জারি থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সার্কেল অফিসারদের ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাধারণ সংরক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০ দিনে।
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বৈশ্য টেকরি নিয়েও নতুন আশার আলো দেখছে সংস্থা। ১৯৭৩ সালের পর সেখানে ফের প্রাথমিক খননকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। অনুমান, এখানকার কাঁচা ইটের বৌদ্ধ স্তূপটি আয়তনে সাঁচির চেয়েও বড় হতে পারে। প্রায় ৬০ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পের আগে জায়গাটির গুরুত্ব যাচাই করতেই এই প্রাথমিক পদক্ষেপ।
ঐতিহাসিক স্মারক তালিকা নিয়ে ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধেও স্পষ্ট অবস্থান নেন রাওয়াত। ১৯০৪ সালের ব্রিটিশ আইনের আওতায় তৎকালীন সময়ে অখ্যাত সেনাকর্মী, এমনকি ঘোড়া ও পোষা প্রাণীর সমাধিও জাতীয় তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর কোনো পুনর্বিচার ছাড়া সেই তালিকা গ্রহণ করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে আগ্রার তাজমহল বা লালকেল্লার মতো বহুল চর্চিত কাঠামোর বাইরে বেরেলির ‘ভীম কি গদা’-র মতো স্বল্প পরিচিত স্থাপত্যগুলিকেও পর্যটন ও সংরক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসের গভীরে পৌঁছাতে আরও দুটি বড় উদ্যোগের কথা জানান তিনি। হরিয়ানার রাখিগড়িতে প্রাপ্ত মানব কঙ্কালের বয়স, খাদ্যভ্যাস ও রোগ নির্ণয়ে নৃবিজ্ঞান ও জীবাশ্মবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট জমার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দার বাঁ তীর ধরে ঋষিকেশ থেকে বদ্রীনাথ-কেদারনাথের প্রাচীন পায়ে হাঁটা তীর্থপথ এবং মহাভারতে বর্ণিত পাণ্ডবদের ‘স্বর্গারোহণ পথ’ চিহ্নিত করতে ‘মিশন মোডে’ অনুসন্ধান শুরু করছে এএসআই।
