হাওড়া, নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্য দিবালোকে হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ। দিনে দুপুরে এমন ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লিলুয়া ঝিল রোডের একটি বহুতল থেকে অপহৃত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি এই ঘটনায় সাত দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রও। আজ অর্থাৎ শুক্রবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম পিয়ারিলাল পাসি। হাওড়া স্টেশন চত্বর সংলগ্ন সবজি বাজারে ছোটোখাটো ব্যবসা করেন। অভিযোগ, বাইকে চেপে এসে কয়েকজন দুষ্কৃতীরা তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত নজরদারির উপর নির্ভর করে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই লিলুয়া ঝিল রোড এলাকার একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে হানা দেয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। গোলাবাড়ি ও লিলুয়া থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই ফ্ল্যাট থেকেই অপহৃত ব্যবসায়ী পেয়ারেলালকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় সাত অপহরণকারীকে। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ৭ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫০ রাউন্ড কার্তুজ, ৯ টি মোবাইল ফোন এবং একটি ট্যাব উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অপহরণের পর ব্যবসায়ী পিয়ারিলাল পাসির পরিবারের কাছে মোটা টাকার মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। সেখানে অপহৃতের পরিবারকে লিলুয়ার বি রোডের ওই আবাসনে যেতে বলা হয়। সেই ফোন কল ট্র্যাক করেই অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে বিশাল পুলিশ বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে ওই আবাসনে গিয়ে পৌঁছয়। ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। ওই আবাসন থেকে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি সাতজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই অপহরণচক্রের মূল পাণ্ডা কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাহুল মল্লিক। একটি খুনের মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর জেল খাটার পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে সে। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃতদের সঙ্গে অপহৃত পেয়ারেলালের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পেয়ারেলাল নিজেও হাওড়া বাসস্ট্যান্ড এবং সংলগ্ন সবজি বাজার এলাকায় নানা অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। তবে কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
