কোচি: কেরলের কোচিতে বিচারকের নাবালক ছেলের চালানো বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে চেরানেল্লুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম জয়বালকৃষ্ণন। বয়স ৫৫ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি একটি ছোট খাবারের দোকান চালাতেন। দোকান বন্ধ করে স্কুটারে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। অভিযোগ, পিছন থেকে একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি তাঁর স্কুটারে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এক নাবালক। তিনি এক অতিরিক্ত জেলা বিচারকের ছেলে বলে অভিযোগ। গাড়িটি ওই বিচারকের নামেই নথিভুক্ত। দুর্ঘটনার পর নাবালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। কোচি শহর পুলিশের অধীন চেরানেল্লুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬(১) ও ২৮১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বিচারক থানায় পৌঁছেছিলেন। সেখানে তাঁর নাবালক ছেলেকে গাড়ি চালাতে দেওয়া হয়েছিল কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন পরিবারের এক আত্মীয় জয়লক্ষ্মী। তাঁর দাবি, প্রশ্নের জবাবে বিচারক তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং আইন শেখাতে নিষেধ করেন। এমনকি, তাঁকে প্রশ্ন করার যোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৃতের পরিজনেরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। তাঁদের দাবি, প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। নাবালক চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, চিকিৎসকের প্রাথমিক রিপোর্টে মদ্যপানের প্রমাণ মেলেনি। তবে অন্য কোনও নেশাজাতীয় পদার্থ গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই ঘটনা ফের সামনে এনেছে নাবালকের হাতে মোটরগাড়ি তুলে দেওয়ার বিপজ্জনক দিকটি। মোটরযান আইনের ১৯৯এ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাবালকের অভিভাবক বা গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষে তাঁদের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ২০২৪ সালে কেরল হাই কোর্টও জানিয়েছিল, নাবালকের গাড়ি চালানোর ঘটনায় আইন মেনে অভিভাবক বা গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে ব্যবস্থা শুরু করা যেতে পারে।
তবে এই দুর্ঘটনায় ঠিক কীভাবে সংঘর্ষ ঘটেছিল, গাড়ির গতি কত ছিল এবং চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই। আপাতত এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিচারকের পরিবারের ভূমিকা, নাবালকের গাড়ি চালানো এবং পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।




