কলকাতা: পুজোর কেনাকাটা, নতুন পোশাক আর রাতভর ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা সবকিছুর সঙ্গে বাঙালির দুর্গাপুজোর আনন্দে জড়িয়ে থাকে রাস্তার ধারের খাবার। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার ফাঁকে গরম চিকেন রোল, ধোঁয়া ওঠা চাউমিন কিংবা ঝাল-মশলাদার মোমো না হলে অনেকেরই পুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু এ বছর পুজোর মরসুমে সেই চেনা স্ট্রিট ফুড খেতে পকেট থেকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কাঁচামালের দাম, রান্নার তেল, গ্যাস এবং দোকান চালানোর খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে রাস্তার ধারের খাবারের দামেও।
রোল থেকে মোমো, পুজোর আড্ডায় খাবারের টান
কলকাতার দুর্গাপুজোয় স্ট্রিট ফুডের আকর্ষণ বরাবরই আলাদা। সন্ধ্যা নামতেই বড় রাস্তার পাশে কিংবা জনপ্রিয় মণ্ডপের আশপাশে খাবারের দোকানগুলিতে বাড়তে থাকে ভিড়। বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চিকেন রোল ভাগ করে খাওয়া, পরিবারের সঙ্গে চাউমিনের প্লেট নিয়ে বসা কিংবা রাতের শেষে গরম মোমো এসবই পুজোর অভিজ্ঞতার পরিচিত অংশ।
বিশেষ করে কলেজপড়ুয়া, তরুণ-তরুণী এবং কম বাজেটে ঘুরতে বেরোনো মানুষের কাছে রাস্তার খাবার বেশ জনপ্রিয়। তুলনামূলক কম খরচে পেট ভরানো যায় বলেই অনেকের পুজোর খাবারের তালিকায় স্ট্রিট ফুডের জায়গা পাকা।
কেন বাড়তে পারে খাবারের দাম?
রাস্তার ধারের খাবারের দাম নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। ময়দা, মাংস, ডিম, সবজি, রান্নার তেল ও মশলার দাম বাড়লে খাবার তৈরির খরচও বাড়ে। তার সঙ্গে যোগ হয় রান্নার গ্যাস, দোকান ভাড়া, কর্মীদের পারিশ্রমিক এবং পরিবহণের খরচ।
পুজোর সময় ক্রেতার সংখ্যা বাড়লেও সব বিক্রেতার পক্ষে বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করা সম্ভব হয় না। ফলে কোনও কোনও দোকানে খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আবার অনেক বিক্রেতা ক্রেতা ধরে রাখতে আগের দাম বজায় রাখার চেষ্টাও করেন। তাই শহরের সব দোকানে একই হারে দাম বাড়বে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কত টাকা খরচ হতে পারে রোল, চাউমিন ও মোমো খেতে?
পুজোর সময় খাবারের বাজেট তৈরি করতে গেলে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি একই খাবারের দাম দোকান, এলাকা, উপকরণের পরিমাণ এবং নিরামিষ বা আমিষের ধরনের উপর নির্ভর করে আলাদা হতে পারে। জনপ্রিয় মণ্ডপের কাছের দোকান এবং পাড়ার সাধারণ খাবারের দোকানের দামও এক নাও হতে পারে।
তাই চিকেন রোল, এগ চাউমিন কিংবা মোমো খেতে কত টাকা লাগবে, তা জানতে নির্দিষ্ট দোকানের মেনু বা মূল্যতালিকা দেখে নেওয়াই ভালো। যাচাই করা তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট দামবৃদ্ধির অঙ্ক বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
পুজোর খাবারের বাজেট সামলাবেন কীভাবে?
ঠাকুর দেখার পাশাপাশি খাবারের জন্যও আলাদা বাজেট রাখলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়। দোকানের মেনুতে দাম দেখে অর্ডার করা, খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী কেনা এবং একাধিক দোকানের দাম তুলনা করা কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি, খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখা জরুরি।
উৎসবের আনন্দে পকেটের হিসাব
দুর্গাপুজোয় খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়, এটি শহরের উৎসব-সংস্কৃতিরও অংশ। তবে কাঁচামালের খরচ বাড়লে তার প্রভাব বিক্রেতা ও ক্রেতা দু’পক্ষের উপরেই পড়তে পারে। পুজোর মুখে স্ট্রিট ফুডের দাম সত্যিই কতটা বদলেছে, তা বুঝতে বিভিন্ন এলাকার দোকানের আগের ও বর্তমান মূল্যতালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
রোল, চাউমিন আর মোমোর স্বাদে পুজোর রাত জমুক, তবে তার আগে দেখে নিন মেনুর দাম। কারণ, ঠাকুর দেখার আনন্দের পাশাপাশি পকেটের হিসাবটাও ঠিক রাখা দরকার।





