কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মুখে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ডাক দিতে গিয়ে ভাষা-বিতর্কে জড়াল কলকাতা পুরনিগম। উপলক্ষ মহোৎসবের প্রস্তুতি, অথচ সেই আবহেই সরকারি প্রচারের শব্দচয়নকে কেন্দ্র করে আড়াআড়ি বিভক্ত রাজনৈতিক মহল। বাংলা ও হিন্দির সংমিশ্রণে তৈরি একটি বাক্যবন্ধকে কেন্দ্র করে ‘ভাষার বিকৃতি’ ও ‘হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুরনিগমের সমাজমাধ্যমের একটি সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনে।
আগামী ১০ থেকে ২১ অক্টোবর শহরজুড়ে বিশেষ সাফাই অভিযানের কথা জানিয়ে একটি পোস্টার প্রকাশ করেছিল পুর কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য ছিল দেবীবন্দনার আগে তিলোত্তমাকে নির্মল রাখা। কিন্তু সেই পোস্টারে নজর আটকে যায় একটি অদ্ভুত লাইনে ‘মায়ের করব স্বচ্ছতা সে স্বাগত’। বাংলা ক্রিয়াপদ আর হিন্দি বিভক্তির এই অদ্ভুত ‘জগাখিচুড়ি’ চোখে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, কলকাতা পুরসভার মতো ঐতিহ্যবাহী একটি নাগরিক সংস্থা কীভাবে এত অসাবধানী হতে পারে? যেখানে নিখাদ বাংলায় ‘পরিচ্ছন্নতায় দেবীকে স্বাগত জানাই’ বা অনুরূপ স্পষ্ট বাক্য লেখা যেত, সেখানে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’-এর মতো খিচুড়ি ভাষার আমদানি কেন?
সামাজিক মাধ্যমে পোস্টারটির ছবি তুলে ধরে ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুটা শ্লেষের সুরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছোটবেলায় তিনি কি ভুল বাংলা শিখেছিলেন, নাকি কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতারাতি ভাষার ব্যাকরণ বদলে দেওয়া হয়েছে? দুর্গাপূজার মতো বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত এক উৎসবে ভাষার এই রূপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
একই সুরে সুর মিলিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, নাগরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচারের ক্ষেত্রে ভাষার মর্যাদা ও শুদ্ধতা রক্ষা করা পুরনিগমের নৈতিক দায়িত্ব। দিল্লির শাসকদলকে তোয়াজ করতে গিয়েই কি এই অদ্ভুত ভাষার মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে সেই প্রশ্নও দাগ কেটেছে তাঁর বক্তব্যে। দ্রুত পোস্টার প্রত্যাহারের পাশাপাশি সঠিক বাংলায় প্রচারের দাবি জানান তিনি।
https://www.facebook.com/reel/1824674748985903
বর্তমানে কলকাতা পুরনিগমে কোনো নির্বাচিত বোর্ড নেই, প্রশাসক মণ্ডলীর অধীনেই যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। বছরের শেষভাগে পুরভোটের সম্ভাবনা থাকায় এই ধরনের বিতর্ক যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল শিবিরের দাবি, এটি নিছক ব্যাকরণগত ভুল নয়, বরং সুকৌশলে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। যদিও এ নিয়ে রবিবার দুপুর পর্যন্ত পুরনিগম বা প্রশাসনিক শীর্ষমহলের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি। তবে বিতর্কের পারদ চড়তেই পুরনিগমের সামাজিক মাধ্যমের পাতা থেকে পোস্টারটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
