ইম্ফল: ফের হিংসার ঘটনা মণিপুরে। কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে এক কুকি মহিলাকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, মহিলার মৃত্যুর পর গ্রামে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত মহিলার নাম ডমখোনেই টৌথাং। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁর গলায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচ সন্তানের মা ওই মহিলার। কারা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর চাসাদ গ্রামে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গুলি বিনিময় এবং বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে সংঘর্ষ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।
জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা, এলাকায় কড়া নজরদারি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাসাদ পুলিশ গেটের চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬২ ধারা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি, জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
মণিপুরে সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস
মণিপুরে বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৯২ সাল থেকে কুকি ও নাগা জনজাতির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, সেই সংঘাতে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই হিংসায় ২৬০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হন এবং রাজ্যের একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বজায় থাকে।
২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ পদত্যাগ করেন। চার দিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারি, মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। পরে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করে বিজেপির ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়।
নতুন করে কামজংয়ের এই ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিহত মহিলার উপর হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। আপাতত এলাকায় শান্তি ফেরানো এবং নতুন করে হিংসা ছড়ানো আটকানোই প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
