স্বাধীনতা দিবসে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে দেখা গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। যে কুণাল ঘোষ অতীতে ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন, তাঁর আচমকা উপস্থিতি ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
১৫ অগস্ট মেট্রোপলিটন ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পতাকা উত্তোলন করেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায় এবং কোহিনূর মজুমদাররা। সেই অনুষ্ঠানেই আচমকা হাজির হন কুণাল ঘোষ। পতাকা উত্তোলনের পর তিনি বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহিদবেদিতে ফুল দেন। পরে তাঁকে বক্তৃতা দেওয়ার অনুরোধ করা হলে তিনি সেখানেও বক্তব্য রাখেন।
কুণালের এই উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে, তাহলে কি এতদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কমছে? নাকি শুধুই বিধায়ক হিসেবে স্থানীয় একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি?
অবশ্য কুণাল ঘোষ নিজেই বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তপসিয়ায় নির্মীয়মাণ তৃণমূল ভবনে দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর নিজের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মেট্রোপলিটন ভবনে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান দেখতে পান।
কুণালের দাবি, তিনি বেলেঘাটার স্থানীয় বিধায়ক। তাঁর দলের নামেই সেখানে পতাকা তোলা হচ্ছে দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁকে দেখে আয়োজকরাও বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। এরপর শ্রদ্ধা জানানোর পর চলে যাওয়ার সময় তাঁকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
বক্তৃতায় কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর গ্রেফতারি, সাংসদ পদ খারিজ এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান কুণাল।
ফলে কুণালের উপস্থিতির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে জল্পনা থাকলেও, আপাতত তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ঘটনাটিকে তিনি স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ হিসেবেই দেখছেন। তবে বঙ্গ রাজনীতিতে এই আকস্মিক ছবি ভবিষ্যতে কোনও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।