কলকাতা: গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রীর পদ থেকে সাবিনা ইয়াসমিনের ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদ ছেড়েছেন সাবিনা। আর তাঁর পদত্যাগের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা অনেকেই নাকি মনে মনে অস্বস্তিতে রয়েছেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছেন।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল ঘোষ বলেন, যাঁরা আপাতদৃষ্টিতে অন্য শিবিরে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই তলে তলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে সাবিনা ইয়াসমিনের পদত্যাগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। কুণালের কথায়, সাবিনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিবিরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
‘ভয় না পেয়ে ফিরে আসুন’, বার্তা কুণালের
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে টিকিট ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে যাঁরা বিধানসভায় পৌঁছেছেন, তাঁদের উচিত নিজেদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবা। যাঁরা অন্য শিবিরে গিয়ে নিজেদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসেছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি ফিরে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “অন্যরা ভয় না পেয়ে আপনারা চলে আসুন। বিজেপির কথায় চলবেন না।” তাঁর দাবি, বর্তমানে অন্য শিবিরে থাকা বিধায়কদের মধ্যে সর্বাধিক ছয় থেকে আটজন সেখানে রয়েছেন, বাকিরা ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
‘বাকিরা অন্তর থেকে ছটফট করছে’
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “যাঁরা আপাতদৃষ্টিতে অন্যদিকে আছেন, তাঁরা অনেকে কমিউনিকেশনে আছেন আমাদের সঙ্গে। চাপে রেখে মন রাখা যায় না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, যাঁরা নিজেদের কিছু অভিযোগ বা বিতর্ক আড়াল করতে অন্য শিবিরে গিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কটাক্ষও করেন কুণাল। যদিও তাঁর এই দাবির সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনও নাম বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।
সাবিনার পদত্যাগে বাড়ল জল্পনা
উল্লেখ্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে সাবিনা ইয়াসমিন সরে দাঁড়িয়েছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য শিবিরের নেতারা সত্যিই তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে যোগাযোগ করছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর।





