বিধানসভার অধিবেশনে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। হাউসের ভিতরেই তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, বারংবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করেন।
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। সেই সময় হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষ তাঁর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করেন, “বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন?” আখরুজ্জামান নিজের বক্তব্য চালিয়ে গেলেও কুণাল একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকেন। এতে হাউসের পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু একাধিকবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যেতে এবং শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে জানান, নির্দেশ না মানলে তাঁকে হাউস থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত মার্শাল ডেকে তাঁকে হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রতিবাদ অনেক রকম হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের অসভ্যতা আগে দেখিনি। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আখরুজ্জামান দীর্ঘদিনের বিধায়ক। আজ যেভাবে তাঁর দিকে শারীরিকভাবে এগিয়ে যাওয়া হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি তার তীব্র নিন্দা করছি।”
বিধানসভার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একজন বিধায়ককে মার্শালের মাধ্যমে হাউস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিধানসভা পর্যবেক্ষকদের একাংশ।