স্বাধীনতা দিবসে তৃণমূলের দুই পৃথক শিবিরের কর্মসূচিতে কুণাল ঘোষের উপস্থিতিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার প্রথমে তপসিয়ায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগ দেন বেলেঘাটার বিধায়ক। সেখানে দলের পুরনো কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। পরে সেখান থেকে ফেরার পথে মেট্রোপলিটনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতেও যোগ দেন কুণাল।
কালীঘাটপন্থী কর্মসূচিতে কুণালের সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা। কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময় মেট্রোপলিটনের কাছে নিজের বিধানসভা এলাকার একটি কর্মসূচি দেখতে পান তিনি। সেখানে তৃণমূলের নাম করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন বলে জানান কুণাল।
ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র-সহ একাধিক নেতা, যাঁরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পক্ষ থেকে কুণালকে বক্তৃতা করার অনুরোধ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন।
এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি কুণাল ঘোষও শিবির বদলের পথে? ঋতব্রত শিবিরের মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, কুণাল তাঁদের কর্মসূচিতে এসে যেন ‘কলিং বেল বাজিয়ে’ গিয়েছেন, পরে হয়তো ‘লাগেজ নিয়ে’ চলে আসবেন।
তবে সেই সম্ভাবনা সরাসরি খারিজ করেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রয়েছেন এবং দু’নৌকায় পা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। বরং ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতে গিয়েও তিনি মমতার নাম করে বক্তব্য রেখেছেন বলে দাবি করেন।
কুণালের বক্তব্যে বিজেপির বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শোনা যায়। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কুণাল বলেন, শুধু ক্ষমা চাওয়া বা এফআইআর যথেষ্ট নয়, তাঁকে গ্রেফতার এবং সাংসদপদ খারিজের দাবি জানানো উচিত।
অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কুণালের উপস্থিতিকে স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে এলে তাঁকে বাধা দেওয়ার প্রশ্ন নেই।
স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে কুণাল ঘোষের দুই শিবিরে উপস্থিতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও কুণাল নিজে স্পষ্ট করেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।