নিউজ ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতির আরামদায়ক গণ্ডি ছেড়ে ফের মাটির লড়াইয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড.এল মুরুগান। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিল্লির প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে এবার পুরোপুরি নিজের রাজ্য তামিলনাড়ুতে সংগঠন গোছানোর কাজেই নিজেকে সঁপে দিতে চান।
প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন দলিত সম্প্রদায়ের এই প্রভাবশালী নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, এক সময়ে দিনমজুর পরিবারের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। সেখান থেকে উঠে এসে দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও সম্মানের বিষয়। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ধৈর্য, কর্মনিষ্ঠা ও নেতৃত্বকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য তাঁর হয়েছে। দল ও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে পাওয়া এই বিশ্বাসই তাঁর সাংগঠনিক দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চিঠিতে মুরুগান লেখেন, দেশ, তামিলনাড়ু এবং দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দিনরাত কাজ করে চলেছেন, তা দেখেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। আর সেই তাগিদ থেকেই তিনি মনে করছেন, যে জনসেবার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি একসময় সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন, এবার সেখানেই নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করার উপযুক্ত সময় এসেছে।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মতো রাজনৈতিকভাবে জটিল রাজ্যে দলের ভিত্তি শক্ত করা বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুরুগান চিঠিতে আর্জি জানিয়েছেন, তাঁকে যেন প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যাতে তিনি কোনও সরকারি পদের বাড়তি চাপ ছাড়া তৃণমূল স্তরে নেমে সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন এবং পুরোদমে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে দ্রাবিড় রাজনীতির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মুরুগানের মতো অভিজ্ঞ ও স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনা দরকার ছিল। তাঁর এই আকস্মিক অথচ সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক সমীকরণকে নতুন গতি দিতে পারে।
