নিউজ ডেস্ক: রবিবারের ছুটির দিনে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মহা-সমাবেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগমের সম্ভাবনায় গোটা চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মিন্তো ব্রিজ থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিলের যাত্রাপথ এবং মূল সভামঞ্চে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে চার হাজারের বেশি পুলিশকর্মীর পাশাপাশি নামানো হয়েছে আধাসামরিক বাহিনীও।
শনিবার বিকেলেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামেন পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। সঙ্গে ছিলেন বিশেষ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনাররা। শহরের বর্তমান পরিস্থিতি ও একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচির জেরে রাজধানীতে মোতায়েন থাকা ২৭০টি সিএপিএফ কোম্পানির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।
ভিড় সামলাতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রামলীলা ময়দানকে মোট ১৪টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকছেন একজন করে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার অফিসার।
এছাড়া দু’টি সংবেদনশীল জোনের নজরদারিতে থাকছেন অতিরিক্ত ডিসিপি স্তরের আধিকারিকরা। সভাস্থল ও আশপাশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বসানো হয়েছে দু’শোরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। মোতায়েন থাকছে ড্রোন এবং শরীর-সংলগ্ন ক্যামেরা বা ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরা পরিহিত পুলিশ বাহিনী। জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে মাঠেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম, যেখানে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে রায়ট ভ্যান।
সাধারণ সময়ে রামলীলা ময়দানে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষের জায়গা হলেও, চেয়ার পাতা ও ব্যারিকেড তৈরির কারণে মাঠের ভিতরে ধারণক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজারে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি রুখতে মাঠের বাইরে বাড়তি ফাঁকা জায়গা নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে তবেই মাঠে ঢোকার ছাড়পত্র মিলবে। ভিআইপি ও সাধারণ সমর্থকদের জন্য তৈরি হয়েছে পৃথক ফটক।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে স্বেচ্ছাসেবক রাখা, জলের বন্দোবস্ত করা এবং বাসের পার্কিং নিয়ে ট্র্যাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাষণে যেন কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে প্রশাসন।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অতিরিক্ত ১৫০ জন ট্র্যাফিক পুলিশ নামানো হয়েছে। পথচারীদের যাতায়াতে বাধা না থাকলেও একাধিক রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি। তবে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ (এলএনজেপি) এবং জিবি পন্থ হাসপাতালের কথা মাথায় রেখে অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবার জন্য বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ সচল রাখা হচ্ছে।
এদিকে, রবিবাসরীয় এই রাজনৈতিক সমাবেশ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্পষ্ট ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীপাবলির মুখে পাইকারি ও খুচরো বিক্রির যখন সেরা সময়, তখনই এই ধরনের কড়া ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড়ের জেরে বেচাকেনায় বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন রামলীলা ময়দান সংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা।




