নিউজ ডেস্ক: চারপাশে অনেক মানুষ, হাতে স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য বন্ধু! তবুও দিনের শেষে একা, বাড়িতে পরিবারের সবাই রয়েছেন, অথচ কারও সঙ্গে ঠিক করে কথা বলার সময় নেই। কেউ ব্যস্ত Facebook-এ, কেউ Instagram-এ, আবার কেউ WhatsApp-এর মেসেজে। একই ছাদের নীচে থেকেও যেন প্রত্যেকে নিজের নিজের মুঠোফোনে বন্দী । আর এই ছবিটাই এখন আমাদের প্রতিদিনের জীবনের পরিচিত বাস্তব।
একটা সময় ছিল, সন্ধ্যা হলেই পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করতেন। সারাদিন কী হল, কার কেমন কাটল দিন, সেই সব নিয়েই চলত আড্ডা। বন্ধুরা প্ল্যান করে একসঙ্গে দেখা করত , চায়ের দোকানে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প চলত। কিন্তু এখন সেই অভ্যাস অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দেখা করার বদলে এখন ফোনে কথা, আর সেটাও কমিয়ে অনেক সময় শুধু একটা মেসেজেই শেষ হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের দূরের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব। অন্যের ঘুরতে যাওয়ার ছবি, সুন্দর বাড়ি, দামি পোশাক কিংবা আনন্দের মুহূর্ত দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। মনে হতে থাকে, অন্যদের জীবন অনেক বেশি সুন্দর, অথচ নিজের জীবনে যেন আনন্দের অভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ঘুম, মনোযোগ এবং মানসিক সুস্থতার উপরও প্রভাব ফেলছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়াই একাকিত্বের একমাত্র কারণ নয়। বাস্তব জীবনে যোগাযোগের অভাব, কাজের চাপ এবং ব্যক্তিগত সমস্যাও এর পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাহলে এখন করণীয়, খুব কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় মোবাইল দূরে রেখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন, একসঙ্গে খেতে বসুন, নিজের মনের কথা কাছের মানুষকে জানান। অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা না করে নিজের ছোট ছোট আনন্দগুলো উপভোগ করুন।
মনে রাখতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার লাইক পাওয়া যায়, কিন্তু মন খারাপের দিনে পাশে বসে দুটো ভালো কথা বলার মানুষ পাওয়া অনেক বেশি জরুরি।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই প্রযুক্তির ভিড়ে যেন হারিয়ে না যায় আমাদের প্রিয় মানুষগুলো।




