নিউজ ডেস্ক: জন্মকুণ্ডলীতে গ্রহের অবস্থান বিগড়ে গেলে জীবনে নানা টানাপোড়েন শুরু হয়। জ্যোতিষের ভাষায় যাকে আমরা বলি ‘গ্রহদোষ’। তবে এই প্রতিকূল দশা কাটাতে সব সময় যে চড়া দাম দিয়ে পাথর বা গাছের মূল ধারণ করতে হবে, এমনটা নয়।
ভারতীয় সনাতন জ্যোতিষ মতে, আমাদের রোজকার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে নবগ্রহের সরাসরি যোগ রয়েছে। থালায় থাকা খাবার সঠিক নিয়মে বেছে নিলেই তুষ্ট হতে পারে কুপিত গ্রহ।
কোন গ্রহকে বশে রাখতে খাদ্যতালিকায় কী কী বদল আনা জরুরি, দেখে নেওয়া যাক -
রবি বা সূর্য: কোষ্ঠীতে সূর্যের অবস্থান দুর্বল থাকলে আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্মানে ঘাটতি দেখা দেয়। রবিকে তুষ্ট করতে রোজকার মেনুতে গমের তৈরি আটার রুটি, ডালিয়া এবং সামান্য গুড় রাখুন। এতে ইতিবাচক শক্তি বাড়ে।
চন্দ্র: মানসিক শান্তি ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের কারক গ্রহ চন্দ্র। মনের দোলাচল কিংবা চন্দ্রের অশুভ প্রভাব কমাতে সাদা রঙের খাবারের ওপর জোর দিন। দুধ, দই, ক্ষীর, মাখন বা হালকা চিনির পায়েস পাতে রাখলে দ্রুত ফল মেলে।
মঙ্গল: সাহসিকতা ও পরাক্রমের প্রতীক মঙ্গল রুষ্ট হলে রক্তজনিত সমস্যা বা অতিরিক্ত ক্রোধ বাড়ে। এই দোষ কাটাতে লাল রঙের খাবার, যেমন, মুসুর ডাল, টমেটো, লাল আপেল, বেদানার মতো ফল এবং গুড় নিয়মিত খাওয়া উপকারী।
বুধ: বুদ্ধি, যোগাযোগ ও ব্যবসার ওপর বুধের প্রভাব প্রবল। বুধকে অনুকূলে রাখতে রোজকার পাতে টাটকা সবুজ শাকসব্জি এবং সবুজ মুগ ডাল রাখা উচিত।
বৃহস্পতি: সৌভাগ্য, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক উন্নতির কারক বৃহস্পতিকে প্রসন্ন করা সবচেয়ে জরুরি। এর কুপ্রভাব এড়াতে ছোলার ডাল, বেসনের পদ, খাঁটি হলুদের ব্যবহার বাড়ান। খাওয়ার শেষে এক টুকরো হলুদ রঙের মিষ্টি খাওয়াও বেশ শুভ।
শুক্র: প্রেম-ভালোবাসা, বৈষয়িক সুখ ও আরাম-আয়েশের কারক শুক্র অশুভ থাকলে দাম্পত্যে অশান্তি বাড়ে। এই গ্রহকে শান্ত করতে ভাতের পাতে সামান্য গাওয়া ঘি মেখে খান। মাঝে মাঝে চালের তৈরি সুস্বাদু পোলাও বা পায়েস খাওয়াও ভালো টোটকা।
শনি: শনির সাড়েসাতি বা ঢাইয়ার প্রকোপ থেকে স্বস্তি পেতে রান্নায় সর্ষের তেলের ব্যবহার বাড়ান। এ ছাড়া কালো তিল এবং কলাইয়ের ডাল নিয়ম করে খেলে শনিদেবের রোষ অনেকটাই প্রশমিত হয়।
রাহু: ছায়াগ্রহ রাহুর কুনজর ব্যক্তির জীবনে হঠাৎ বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে খাবারে চাটনি বা আচারের মতো টক জিনিস, বিশেষ করে আমের আচার বা আমসত্ত্ব রাখুন। সম্ভব হলে কাক বা পাখিদেরও কিছুটা আম বা মিষ্টি ফল খেতে দিতে পারেন।
কেতু: কেতুর অশুভ প্রভাব কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর দাওয়াই হলো তেতো স্বাদ। দুপুরের খাবারের শুরুতে নিমপাতা ভাজা, উচ্ছে বা করলা সেদ্ধ দিয়ে ভাত খাওয়া অভ্যাস করুন। এতে কেতুদোষের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসে।
