নিউজ ডেস্ক: দেবী কালীর মূর্তি দেখলেই প্রথমে চোখে পড়ে তাঁর ভয়ংকর রূপ। উন্মুক্ত কেশ, রক্তবর্ণ জিভ, হাতে খড়্গ, আর গলায় ঝুলছে নরমুণ্ডের মালা। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন দেবীর গলায় এই নরমুণ্ডের মালা থাকে? কেনই বা সেই মালায় মুণ্ডের সংখ্যা ৫০? এর পিছনে রয়েছে এক গভীর পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সংস্কৃত বর্ণমালা।
প্রচলিত তান্ত্রিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মা কালীর গলায় থাকা ৫০টি নরমুণ্ড আসলে সংস্কৃত ভাষার ৫০টি বর্ণের প্রতীক। সংস্কৃত বর্ণমালার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণকে সৃষ্টির মূল ধ্বনি বা শক্তির প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বর্ণগুলির মাধ্যমেই শব্দ, মন্ত্র এবং জ্ঞানের প্রকাশ ঘটে। সেই কারণেই দেবীর গলার মুণ্ডমালাকে কেবল ভয়ংকর অলংকার হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাকে ধরা হয় বর্ণময়ী আদ্যাশক্তির প্রতীক হিসেবে।
তন্ত্রশাস্ত্রের ব্যাখ্যায় দেবী কালীকে বলা হয় শব্দব্রহ্মের আধার। অর্থাৎ সমস্ত ধ্বনি, শব্দ ও সৃষ্টির উৎস তাঁর মধ্যেই নিহিত। সংস্কৃতের প্রতিটি বর্ণের সঙ্গে এক একটি শক্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে তান্ত্রিক সাধনায় বিশ্বাস করা হয়। সেই ৫০টি বর্ণের প্রতীক হিসেবেই দেবীর গলায় ৫০টি মুণ্ডের মালার কল্পনা করা হয়েছে।
তবে এই মালার আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের মুণ্ড অহংকার, অজ্ঞানতা এবং নশ্বর জীবনের প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। মা কালীর গলায় সেই মুণ্ডমালা যেন মনে করিয়ে দেয়, মানুষের অহংকার ও পার্থিব অস্তিত্ব কোনওটাই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের প্রবাহে সব কিছুরই অবসান ঘটে। দেবী সেই সময়, সৃষ্টি ও বিনাশের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী মহাশক্তির প্রতীক।
অর্থাৎ, দেবীর গলার নরমুণ্ডের মালা শুধুমাত্র ভয় বা ধ্বংসের প্রতীক নয়। এর মধ্যে রয়েছে সৃষ্টি, শব্দ, জ্ঞান, অহংকারের বিনাশ এবং জীবনের অনিত্যতার দর্শন। যে রূপকে বাইরে থেকে ভয়ংকর মনে হয়, তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।
মা কালীর গলায় ৫০টি নরমুণ্ডের মালা কেন থাকে?

Related News

ভারতের এই মন্দিরে পূজিত হয় হাজার হাজার ইঁদুর! সাদা ইঁদুর দেখলেই নাকি সৌভাগ্য
ভারতের রাজস্থানে এমন এক মন্দির রয়েছে, যেখানে দেবীর পাশাপাশি পূজিত হয় প্রায় ২৫ হাজার ইঁদুর! দেশনোকের করণী মাতা মন্দিরে ইঁদুরদের বলা হয় ‘কাবা’। স্থানীয় বিশ্বাস, সাদা ইঁদুরের দর্শন মিললে জীবনে সৌভাগ্য আসে। কিন্তু ইঁদুরদের ঘিরে এই অদ্ভুত বিশ্বাসের নেপথ্যে রয়েছে কী পৌরাণিক কাহিনি?
০৬ নভে ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম · 2 মিনিট
কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের হাত ধরেই কি বাংলায় শুরু কালীপুজো? জানুন অজানা ইতিহাস
বাংলার ঘরে ঘরে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল মা কালীর আরাধনা? কালীপুজোর ইতিহাসে কতটা গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের ভূমিকা? দেবীর দক্ষিণাকালী রূপের প্রচলন থেকে নবদ্বীপের আগমেশ্বরী পুজো, আবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতা থেকে রামপ্রসাদ সেনের শ্যামাসংগীত—জেনে নিন বাংলায় কালীপুজোর প্রচলন ও প্রসারের পিছনে থাকা অজানা ইতিহাস।
০৬ নভে ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম · 3 মিনিট
‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ আর নয়! নৈহাটির বড়মার মন্দিরে বদলে গেল পরিচিত বার্তা, ন...
নৈহাটির বড়মার মন্দিরে বদলে গেল দীর্ঘদিনের পরিচিত ট্যাগলাইন। ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’-এর পরিবর্তে নতুন বার্তা ‘বড় মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি’। কেন এই সিদ্ধান্ত? মন্দির কমিটির তরফে জানানো হল পরিবর্তনের কারণ।
০৬ নভে ২০২৬, ০১:২৭ পিএম · 2 মিনিট
দুর্গার কপাল থেকে কীভাবে আবির্ভাব মা কালীর? জানুন মহাকালীর জন্মের পৌরাণিক কাহিনি
কৃষ্ণবর্ণ শরীর, গলায় নরমুণ্ডের মালা, হাতে খড়্গ! দেবী কালীর ভয়ংকর রূপের নেপথ্যে রয়েছে অশুভ শক্তি বিনাশের এক পৌরাণিক আখ্যান। মার্কণ্ডেয় পুরাণের দেবীমাহাত্ম্য অনুযায়ী, চণ্ড ও মুণ্ডের অত্যাচার দমনে দেবী অম্বিকার কপাল থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন মহাকালী। পরে রক্তবীজের বিনাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। কিন্তু কেন দুর্গার কপাল থেকে আবির্ভাব হয়েছিল এই ভয়ংকরী দেবীর? জানুন মহাকালীর আবির্ভাবের পৌরাণিক কাহিনি।
০৬ নভে ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম · 2 মিনিটTop Comments (0)
No approved comments yet.