মালদহ: গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মালদহ জেলার গাজোলে বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গাজোলের শিক্ষকপল্লী এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ৩ কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে গাজোল থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকপল্লীর ওই বাড়িতে গোপনে ব্রাউন সুগারের কেনাবেচা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসার পর গাজোল থানার আইসি কৌশিক বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল অভিযান চালায়। বাড়ির দোতলায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ছোট ছোট প্যাকেটে ভরা ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়। পাশাপাশি মাদক প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত কিছু সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রতিটি প্যাকেটের ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম করে তৈরি করা হচ্ছিল, যাতে সহজে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা যায়। উদ্ধার হওয়া সব প্যাকেট মিলিয়ে প্রায় ৩ কেজি ব্রাউন সুগার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ধার হওয়া এই মাদকের মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।
অভিযানের পর ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইন মেনে বাজেয়াপ্তির সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। গাজোলের বিডিও সুমন ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক, প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন। এরপর সেগুলি সরকারি নিয়ম মেনে জব্দ করা হয়।
ধৃত চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এই বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এই চক্রের মূল হোতা এবং কোন কোন এলাকায় এই মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য কোনও মাদক পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আরও কয়েকজনকে নজরে রাখা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য মিলছে। তারই ধারাবাহিকতায় মালদহের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। তদন্ত শেষ হলে গোটা মাদক চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।