নিউজ ডেস্ক: মালদা জেলা পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সোমবার গভীর রাতে মালদা স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস শিবিরের তিন সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন ঘিরে যখন রাজনৈতিক অঙ্ক নিয়ে জোর চর্চা চলছে, ঠিক তার আগেই এই আটকের ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
জানা গিয়েছে, মালদা জেলা পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবহেই সোমবার রাতে মালদা স্টেশনে নামার পর তিন সদস্যকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই স্টেশন চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা।
কংগ্রেসের অভিযোগ, জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ নিজেদের পক্ষে ঘোরাতেই পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী এবং কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূর এই ঘটনায় সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের দলের তিন সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, জেলা পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের সদস্যদের আটক করার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সমীকরণে কোনওভাবেই যাতে বিরোধী সদস্যরা নিজেদের অবস্থান জানাতে বা ভোট দিতে না পারেন, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের তরফে আটক সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে এবং কোন মামলার ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে পুলিশের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।
জেলা পরিষদের শীর্ষ দুই পদে নির্বাচন ঘিরে এমনিতেই মালদায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। তার মধ্যে ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে তিন সদস্যকে আটক করার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন নজর একটাই আটক সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না এবং তাঁদের অনুপস্থিতি জেলা পরিষদের ক্ষমতার অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে।