নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন 'ভোটচুরি'র অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। এরই মাঝে বিচার দাবি তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ইন্ডিয়া ব্লকের প্রতিবাদে যোগ দিতে তিনি বললেন, ‘মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা তার ন্যায় বিচার চাই।’
গত ১০ অক্টোবর বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ব্যাপক কড়াকড়িতে সেই আন্দোলন ভেস্তে যায়। তবে ককরোচরা আবারও পথে নামতে চলেছে। দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ফের বাড়ল উত্তেজনা। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি করার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সোমবার এই হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের কাছ থেকে কোনও উত্তর না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধীদের INDIA জোট। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ও সাংসদের। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি।
রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই যুবসমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ‘ডরো মত’ বার্তায় গণতন্ত্র ও সংবিধানের পক্ষে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার INDIA জোটের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুধু যোগাযোগ রাখাই নয়, তাঁরা বিভিন্ন তথ্যও সরবরাহ করছেন বলে দাবি করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
রাহুলের কথায়, “আপনাদের সরকারের ২০০ জন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরা আমাদের তথ্য দিচ্ছেন।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি সরকারি প্রশাসনের একাংশের মধ্যে এমন কোনও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সামনে আসছে? তবে রাহুল গান্ধীর এই দাবির সমর্থনে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও নথি, নির্দিষ্ট তথ্য বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরিচয় সামনে আসেনি।
