কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশের আগের রাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সভার প্রস্তুতি চলার মধ্যেই একাধিক ব্যানার, পোস্টার ও মঞ্চের সামগ্রী ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে সভাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
ঘটনাস্থলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “সন্ধেবেলাতেও এখানে ঘুরে গিয়েছিলাম। এখন দেখছি, পরিকল্পিতভাবে সভা বানচাল করার চেষ্টা হয়েছে। লোকজনকে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, শহিদ পরিবারগুলির বাড়ি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। গায়ের জোরে সব কিছু করা যায় না।” এরপরই নাম না করেই বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি। মমতার দাবি, "একজন ক্রিমিনালের নেতৃত্বে ৬০-৬৫ জনের বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। আদালতের নির্দেশে সে এখন বাইরে রয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই এত সাহস পেয়েছে।"
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, শুধুমাত্র মঞ্চ ভাঙচুর নয়, ২১ জুলাইয়ের সমাবেশকেই ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, "৪০ বছর ধরে ২১ জুলাই পালন করছি। অথচ আজ আমাদের সভা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও আক্রমণ হয়েছে। যা দিল্লিতে হয়েছে, তা-ই এবার মাঝরাতে কলকাতায় হল।"
এখানেই থেমে থাকেননি মমতা। বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, "দু'মাসে গোটা বাংলাকে কবজা করে ফেলেছে। ২১ জুলাইয়ের পর প্রতিদিন রাস্তায় নামব। দেখি, কীভাবে আটকায়। ৩৫ বছরের বাম শাসনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই দমননীতি।"
নিজেদের দল সম্পর্কেও আত্মসমালোচনার সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। মমতা বলেন, "আমাদের মধ্যেও যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, ব্যবস্থা নিয়েছি। ছুপারুস্তমদেরও এখন চিনতে পারছি।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও একহাত নেন তৃণমূল নেত্রী। প্রশ্ন তোলেন, "প্রধানমন্ত্রী কোথায়? বদল চেয়েছিলেন, এটাই কি সেই বদল? আমরা প্রতি বছর শহিদদের শ্রদ্ধা জানাই। কেউ যদি তা ভণ্ডুল করতে চায়, তাহলে রাস্তাতেই আন্দোলন হবে।"
এর আগে সোমবার সন্ধ্যাতেই সমাজমাধ্যম 'এক্স'-এ কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে ট্যাগ করে নিরাপত্তার দাবি জানান তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, একদল রাজনৈতিক দুষ্কৃতী সভামঞ্চে হামলা চালিয়ে ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে, মাইকের তার কাটার চেষ্টা করে এবং কর্মীদের ভয় দেখায়।
কুণাল লেখেন, “আদালতের নির্দেশ মেনেই সভার প্রস্তুতি চলছিল। কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতী এসে সম্পত্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই এই অপচেষ্টা। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তাঁর দাবি, দলীয় কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে এই ভাঙচুরের অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের আবহে এখন নজর, এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং শহিদ দিবসের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।