নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আরও শক্তিশালী হচ্ছে 'ইন্ডিয়া' জোট। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসতে চলেছেন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। সেই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও, এমনটাই সূত্রের খবর। নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা এবং SIR নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকের আগে বিরোধী দলগুলির নেতাদের মধ্যে যোগাযোগও হয়েছে। CPIM-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিল্লির বৈঠকের আগে INDIA জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে INDIA জোটের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, 'গোটা দেশকে দুই হাত ভরে লুঠ করেছে বিজেপি এবং সুপরিকল্পিতভাবে তাদের আইটি টিমের মাধ্যমেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। নৈতিকতা যদি একটুও বেঁচে থাকে, তবে অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গের ভোট ফিরিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। কোথাও তাঁর ইস্তফা চেয়ে পথে নেমে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও পোড়ানো হচ্ছে তাঁর কুশপুতুল। কেউ আবার পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর বাসস্থানের সামনেও। স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির দেওয়ালে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। তেমনই জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুলছেন বিরোধীরা। একই দাবি নিয়ে পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, সংসদের প্রস্তাবিত বিশেষ অধিবেশনের আগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির।
এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়েই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি খারিজ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী।
