কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নজিরবিহীন আক্রমণ প্যারাগুয়ের সেনেটরের। শেষ ষোলোর ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশটিকে ১-০ হারানোর পর বিপক্ষ গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন এমবাপ্পে। অভিযোগ, হাত না মেলানোর পাশাপাশি গিলের মুখের উপর চিৎকারও করেন ফরাসি তারকা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া প্যারাগুয়ের লিবারাল পার্টির সেনেটর সেলেস্টে আমারিলার। খাস সেনেটে দাঁড়িয়েই এমবাপ্পেকে "বেশ্যার ছেলে" বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁর আচরণকে "অসভ্য" বলেও আক্রমণ করেন এই জনপ্রতিনিধি। স্বাভাবিকভাবেই এমন কদর্য মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
সেনেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমারিলা জানান, বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা গিল বিনয়ের সঙ্গে হাত বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু এমবাপ্পে তা ফিরিয়ে দিয়ে তাঁকে অপমান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, "এমন আচরণ কোনও ভাবেই ফ্রান্সের সংস্কৃতির পরিচয় হতে পারে না।" রুশো, দেকার্ত, মন্তেস্কু, ভিক্টর হুগো ও সিমন দ্য বোভোয়ার দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে এমবাপ্পের ব্যবহারকে এক সারিতে দেখতে নারাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগেই সমাজ মাধ্যমে একটি খোলা চিঠিতে এমবাপ্পের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেছিলেন আমারিলা এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
বিতর্কে আরও আগুন জ্বালিয়ে আমারিলা টেনে আনেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনাল্ডিনহোর প্রসঙ্গ। গত ২০২০ সালে জাল পাসপোর্ট কাণ্ডে প্যারাগুয়েতে গ্রেফতার হয়ে কয়েক সপ্তাহ জেল খাটতে হয়েছিল রোনাল্ডিনহোকে। সেই ঘটনাই মনে করিয়ে দিয়ে সেনেটরের হুঁশিয়ারি, "প্যারাগুয়ের মানুষকে হালকাভাবে নিও না। আমরা রোনাল্ডিনহোর মতো বিশ্বতারকাকেও জেলে পুরেছি।" একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেন তিনি। যদিও এই পুরো ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেননি ফরাসি ফরওয়ার্ড।
পাশাপাশি ফরাসি শিবিরেও এই বিতর্কের কোনও প্রভাব পড়েছে বলে অন্তত প্রকাশ্যে মনে করছেন না কোচ দিদিয়ের দেশঁ। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এমবাপ্পে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দলের সমস্ত মনোযোগ এখন শুধুই ফুটবলে। রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা রোনাল্ডিনহোর উদাহরণ টেনে দেওয়া বার্তা, সব কিছুকে পিছনে ফেলে এখন সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করাই ফ্রান্সের একমাত্র লক্ষ্য।