পূর্ব মেদিনীপুর: স্কুল পড়ুয়াদের জন্য পরিবেশিত মিড-ডে মিলকে আরও নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় রান্নার কাজে যুক্ত কর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়, যেখানে খাদ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত করার বিভিন্ন পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হয়।
তমলুকের নিমতৌড়ি জেলা প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ময়না-সহ তমলুক মহকুমার বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রায় ১৪৬ জন রান্নার কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। এছাড়াও জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক মোনিয়া চ্যাটার্জী এবং ফুড সেফটি ইন্সপেক্টর সুমন রানা, উজ্জ্বল সরকার, পায়েল চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সরকার ও শ্রাবণী সাহা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে রান্নার কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রান্নার সময় ক্যাপ ও অ্যাপ্রন ব্যবহার, রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা, খাবার ও পানীয় সবসময় ঢেকে রাখা, নিরাপদভাবে খাদ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশনের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। পাশাপাশি বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কেনার সময় প্যাকেটের লেবেল পড়ে মান যাচাই করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত করার বাস্তব প্রশিক্ষণ। ‘ম্যাজিক বক্স’-এর সাহায্যে কীভাবে বাড়িতেই প্রাথমিকভাবে খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষা করা যায়, তার প্রদর্শনী দেখানো হয়। বিশেষ করে খোলা মশলা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং মেটানিল ইয়েলো বা ‘কামধেনু রং’-এর মতো ক্ষতিকর নন-ফুড কালার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে রান্নার কর্মীদের সচেতন করা হয়।
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতি, সংরক্ষণ এবং ভেজাল খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মিড-ডে মিলের গুণগত মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য ভাত, ডাল, সবজি, ডিম-সহ সুষম খাদ্য পরিবেশন করা হয়। সেই খাবার যেন নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মহলের প্রতিনিধিরা।