স্নিগ্ধা চৌধুরী, কলকাতা: কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী। আগুনে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক বলেও জানা গিয়েছে। আহতদের কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তাঁরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। হোটেলটিতে কী ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, ভবনের অনুমোদন এবং হোটেল চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে সামনে আসে ভবনের একাধিক অব্যবস্থার ছবি। অভিযোগ, পাঁচতলা ওই ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল চলছিল। ঘরগুলিও ছিল অত্যন্ত ছোট এবং ঘিঞ্জি। সরু পথ ও সীমিত জায়গার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে আসার সুযোগ কার্যত ছিল না। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ভিতরে একাধিক এসি চলত এবং ঘর তৈরির ক্ষেত্রেও বিল্ডিং প্ল্যানের নিয়ম মানা হয়নি। কীভাবে এমন একটি ভবনে হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মধ্যরাতে আগুন লাগার সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে তাঁরা বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সরু পথ এবং বিকল্প বেরোনোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই সমস্যায় পড়েন। ঘন কালো ধোঁয়ায় গোটা হোটেল ঢেকে যায়। কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে শৌচালয়ে আশ্রয় নেন বলে জানা গিয়েছে। একজন উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকাজ চালান।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনার তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন দমকলমন্ত্রী। ভবনটির অনুমোদন, হোটেল চালানোর লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রীদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।