নিউজ ডেস্ক: দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির করের বোঝা লাঘব করা নিয়ে ফের সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৪’-এর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার মধ্যবিত্তদের সুবিধার্থে বার্ষিক ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর আয়কর শূন্য করেছে। তবে স্রেফ নীতিগত ঘোষণার খতিয়ান দিয়েই থামেননি তিনি।স্বভাবসিদ্ধ রসবোধে উপস্থিত দর্শকদের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী টিপ্পনী কাটেন “আপনাদের বারবার এটা মনে করাতে হয়। যা পাওয়া গেল তা বেমালুম হজম করে ফেলবেন, এমনটা তো চলে না!”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সভাগৃহে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষ এবং মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীদের সুবিধার জন্য সরকার যে পরিকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো দিচ্ছে, তা অনেক সময়ই নিয়মিত চর্চার অভাবে আড়ালে চলে যায়। তাই সেই প্রাপ্তিগুলোর কথা তিনি নিজেই বারবার সকলকে মনে করিয়ে দিতে চান।
ভাষণে দেশের সামগ্রিক রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ দিশা তুলে ধরার ফাঁকেই কর ব্যবস্থার সরলীকরণ নিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কর কাঠামোর অধীনে বিভিন্ন ছাড় ও রিবেটের সুবিধার ফলে করযোগ্য আয় বার্ষিক প্রায় ১২ লাখ টাকার সীমায় পৌঁছালেও কার্যকরী করের দায় কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এই বাস্তব সুবিধাটির কথাই সম্মেলনে তুলে ধরছিলেন তিনি।
সামিটে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশ এখন শুধু শ্রমনির্ভর অর্থনীতির গণ্ডিতে আটকে নেই, উদ্ভাবন ও মেধার বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। কিন্তু বড় অর্থনীতির এই অগ্রযাত্রার মধ্যেও যাতে সমাজের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়তি করের চাপে পিষ্ট না হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসন সদা সতর্ক।
কঠিন ও কাঠখোট্টা অর্থনৈতিক নীতিকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় এবং কিছুটা হাসিমুখের মোড়কে পরিবেশন করার যে চেনা ভঙ্গি মোদীর রয়েছে, এই শীর্ষ সম্মেলনেও তা স্পষ্ট দেখা গেল। ১২ লাখ টাকার করমুক্তির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সেই ‘হজম’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।




