নিউজ ডেস্ক: নতুন দলীয় কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপির নতুন টিম তৈরি হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারে বেশ কিছু মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন মুখ, তরুণ নেতা এবং শরিক দলের প্রতিনিধিদের জায়গা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা ৬৯। সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৮১ জন থাকতে পারেন। ফলে এখনও ১২টি পদ খালি রয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং তার আগে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট-সহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখেই রদবদলের ছক তৈরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভায় কয়েকটি পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজ্যসভায় মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন এবং রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিংহ বিট্টুও সরে গিয়েছেন। দলীয় সংগঠনে নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীরাও এবার নজরে। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি হয়েছেন হর্ষ মালহোত্র এবং পঙ্কজ চৌধুরী। আবার বিজেপির কেন্দ্রীয় কাঠামোয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। নভেম্বরেই রাজ্যসভায় মেয়াদ শেষ হতে চলেছে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মার। কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেও কয়েক জনকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
মন্ত্রিসভায় কারা ঢুকবেন, সেই হিসাবেও একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। বয়স গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে অন্তত ১২ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী বা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর বয়স ৭০-এর বেশি। ৮১ বছরের জিতন রাম মাঝি সবচেয়ে প্রবীণ মন্ত্রী। অন্য দিকে ৩৮ বছরের কে রামমোহন নায়ডু সবচেয়ে কমবয়সি। তরুণ ও মহিলা মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাট থেকে নতুন মুখ আসতে পারে। মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বাড়ায় তাঁর ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডের নামও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ হিসেবে ঘুরছে।
শরিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে আসা সাত রাজ্যসভা সাংসদের গোষ্ঠী প্রতিনিধিত্ব পেতে পারে। বিজেপি-অকালি দল জোট ফের গড়ে উঠলে হরসিমরত কৌর বাদলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে গিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করা সাংসদদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার আলোচনা চলছে। এই তালিকায় শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ রয়েছেন মোট ২০ জন। পাশাপাশি তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং মহারাষ্ট্রে এনসিপি-কে ঘিরেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা রয়েছে। এরই সঙ্গে ১৪ জন মন্ত্রীর হাতে একাধিক দফতরের দায়িত্ব থাকায় কাজের চাপ কমাতেও রদবদল করা হতে পারে। তবে কবে সেই পরিবর্তন হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি বিজেপি।