পশ্চিম মেদিনীপুর: একজনের বিপদ দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। কিন্তু, কে জানত সাহায্যের হাত বাড়াতে গিয়ে তাঁদেরও এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে একের পর এক মানুষ বিপদের মুখে পড়েন। কাউকে উদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে মোহনপুর থানার আঁতলা গ্রামে। একটি সেপটিক ট্যাংক কিভাবে একসঙ্গে এতগুলি প্রাণ কেড়ে নিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার আঁতলা গ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল চার জনের। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার সকালে একই পরিবারের সদস্যদের একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে এমন ভয়াবহ পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, আঁতলা গ্রামে নিজের বোনের বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাংকের কাজ করতে এসেছিলেন বদির মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। কাজ চলাকালীন অসাবধানতাবশত তিনি হঠাৎই গভীর ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যান। দীর্ঘ দিন ঢাকা থাকার ফলে ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে জমে ছিল বলে জানা যায়। এই গ্যাসের প্রভাবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিপদ আরও বাড়তে শুরু করে। ভাইকে পড়ে যেতে দেখে তাঁকে টেনে তুলতে ছুটে যান বোন সারজিনা বিবি। কিন্তু, ভারসাম্য রাখতে না পেরে তিনিও ট্যাংকের ভিতরে পড়ে যান। পরিবারের দুজন সদস্যকে বিপদের মধ্যে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অন্যরা।
পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে মাকে বাঁচাতে দ্রুত ছুটে আসে সারজিনা বিবির ছেলে শেখ রবিউল। কোনও কিছু না ভেবেই তিনিও ট্যাংকের মুখ দিয়ে ভেতরে নামেন এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে জ্ঞান হারান। একই সঙ্গে তিন জনকে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়তে দেখে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী আত্মীয় শেখ সাহেব। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যবশত তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে কাবু হয়ে ট্যাংকের ভেতরে তলিয়ে যান। এদিকে, তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে শেখ আবুকালাম নামে আরও এক স্থানীয় ব্যক্তি বিষাক্ত গ্যাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এই ঘটনায় বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতরভাবে অসুস্থ শেখ আবুকালাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই পরিবারের সদস্যদের একে অপরকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা শেষ পর্যন্ত এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা ভাবতেই পারেননি কেউ। ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সেপটিক ট্যাংকের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সাহায্য এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের ট্যাঙ্কে নামা প্রাণঘাতী হতে পারে। বিপদে পড়া কাউকে উদ্ধার করতে গিয়ে একই বিপদের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।